সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত হালির হাওরের আসানপুরের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে হাওরের পাকা বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে। সোমবার রাতে জামালগঞ্জ উপজেলার আসানপুর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত ২১ নম্বর প্রকল্পের বাঁধ ভেঙে এই হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার সকালে জামালগঞ্জ উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিশ্বজিৎ দত্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “জামালগঞ্জ উপজেলার আসানপুর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্মিত ২১ নম্বর প্রকল্পের বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করতে থাকে। ২৫ দিন ধরে হাওরের সব ফসল রক্ষা বাঁধ পানিতে ডুবে আছে। নদ-নদীর পানিও এই সময়ে বিশেষ কমেনি। তাই বাঁধটি ভেঙে গেছে।”
“এই হাওরের ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। অবশিষ্ট যে অল্প ধান আছে, সেগুলো বাঁচানোর জন্য পানি আটকাতে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।”
কৃষি বিভাগ বলছে, বাকি ১০ ভাগ ধান একটু উঁচু জমিতে। সেখানে পানি ঢুকতে ঢুকতে কৃষকরা সেই ফসল কেটে ফেলতে পারবে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র বলেন, হালির হাওরের জামালগঞ্জে চার হাজার ৫২৫ হেক্টর জমির ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্য ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে।
হাওরের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অংশে আরও ৪০৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছিল। সেখানেও ৯০ ভাগ ধান কাটা শেষ।
তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমির ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় ধান কাটা হয়েছে এক লাখ ৩২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির। জেলায় এখন পর্যন্ত গড়ে ৮০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।