শিরোনাম :
রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি : জামায়াত আমির কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট দেওয়ার আশ্বাস তারেক রহমানের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত বগুড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে ভোক্তা অধিকারের অভিযান দশ হাজার জরিমানা বগুড়ায় আমীরে জামায়াতের জনসভা সফল করতে ১০ দলীয় জোটের সভা শিবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থী ৭ জন শিবগঞ্জে অবৈধ মাটি মহলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা শাজাহানপুরে মোটরসাইকেল-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক

টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের ঘটনা মিমাংসার চেষ্টা, এসআই ক্লোজ

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২২

সাভারের আশুলিয়ার ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে থানায় বসে আড়াই লাখ টাকায় মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক এসআই এর বিরুদ্ধে। ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী নারী এমন অভিযোগে মো. ফরিদুল আলম নামের পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে প্রাথমিক ভাবে আশুলিয়া থানা থেকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকায় স্থানীয় সাকিব ভূইয়ার(২৮) বিরুদ্ধে এক পোশাক শ্রমিক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। অভিযুক্ত সাকিব ভুইয়া আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকার শাহ আলম ভুইয়ার ছেলে। তিনি ঘোষবাগে ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচারের ব্যবসা করেন।

জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই পোশাক শ্রমিক নারী আশুলিয়া থানায় শাকিবের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ করলে সেই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পান থানার এসআই মো. ফরিদুল আলম। পরে অভিযুক্তের সাথে আতাত করে আড়াই লাখ টাকায় ঘটনাটি মীমাংসা করেন তিনি।

পরবর্তীতে মীমাংসার পরেও সোমবার থানায় মামলা গ্রহণ করে আশুলিয়া থানা পুলিশ (মামলা নং-২৮)। এমনকি অভিযুক্ত সাকিব ভূঁইয়াকে অভিযান চালিয়ে সোমবার গ্রেপ্তারও করা হয়।

ভুক্তভোগীর এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৩-৪ মাস আগে তার দোকানে গিয়ে অভিযুক্তের সাথে পরিচয় হয় ভুক্তভোগীর। এরপরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে তাদের মাথে। পরে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গত ৬ মার্চ সর্বশেষ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে বিয়ের কথা বললে সেই নারীকে টালবাহানা করে ঘুরাতে থাকে ওই যুবক।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, এর আগেই এ ঘটনার মীমাংসা করা হয়েছিল। এসআই ফরিদ ও আরও কয়েকজন স্থানীয় লোক থানায় বসেই আমাকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে মীমাংসা করায়। তারা বলে মামলায় গেলে অনেক ঝামেলা অনেক খরচ, তুমি মীমাংসা করে নাও। এ বিষয়ে আমার আর কোন অভিযোগও ছিলনা। সেই টাকা থেকে আমার কাছে বিভিন্ন খরচাপাতির কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে উপস্থিতরা। আমি ৪০ হাজার টাকা টেবিলের উপর রেখে দিয়ে চলে আসি। এরপর থেকে আমি আমার মত এলাকায় বসবাস করে আসছিলাম। আমার পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে আমি এ বিষয়ে আর কোন পদক্ষেপ নিতে চাইনি।

কিন্তু হঠাৎ করে এসআই ফরিদ আমাকে ফোন দিয়ে বলে, বোন আমার চাকরিটা বাঁচাও। তুমি থানায় এসে একটা স্টেটমেন্ট দিয়ে যাও। পরে আমাকে থানায় নিয়ে মামলা গ্রহণ করে। আমি যখন মামলা করতে চেয়েছি তখন আমার মামলা নেয়া হয়নি। আর পরে আমি যখন সব ভুলে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চেয়েছি তখন আমাকে এই পথে আনা হল। আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। আমি সাকিবকে এখনো ভালবাসি তাই আর চাইনি সে ঝামেলায় থাকুক। কিন্তু এখন তো তাদের পথে এসে আমাকে মামলা পরিচালনা করতে হবে। আমি তো এখন এসব চাইনি। আমি এ টাকা নিয়েও খুব অস্বস্তিতে আছি। আমি এ টাকা ফেরতও দিতে চেয়েছিলাম।

এ অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা দাবি করে মঙ্গলবার এসআই ফরিদুল আলম বলেন, আজ থেকে আমি পুলিশ লাইনে সংযুক্ত আছি। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমি, টাকা পয়সা নিয়ে কোন মীমাংসা করা হয়নি। তাহলে কেন আপনাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার সিনিয়র কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, যেকোন সময় যেকোন পুলিশ বদলী বা ট্রান্সফার হতে পারে। এটা এ ধরণের বিষয় তো না। এ বদলী তার জন্য শাস্তিমূলক কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না তো এটা শাস্তিমূলক বিষয় তো না। এটা অভ্যন্তরীণ বিষয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023