উজানের ঢলে বন্যার শঙ্কা হাওরে

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২

ভারতের আসাম ও মেঘালয় প্রদেশের কিছু এলাকায় ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণার কিছু অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোববার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীরণ কেন্দ্র এক সপ্তাহের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি কমছে। তবে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আবারও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ-ভারতের আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন আসাম ও মেঘালয় প্রদেশের কিছু স্থানে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণায় নদ-নদীর পনি দ্রুত বাড়লেও বিপদসীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে এপ্রিলের শুরুতে উজানের ঢলে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর আবাদি জমির ক্ষতি হয় বলে প্রাথমিক হিসাবে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এরমধ্যে সুনামগঞ্জে ক্ষয়ক্ষতির হার সবচেয়ে বেশি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং-এর একজন কর্মকর্তা জানান, ছয়টি জেলার হাওর এলাকায় এবার বোরো ফসল রয়েছে ৫,৫৬,০২৩ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে ৬,৭৯৮ হেক্টর (দশমিক ৭৫ শতাংশ) আবাদি জমি অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়ায় আক্রান্ত হয়েছে।

এছাড়া সিলেট, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে ফসলি জমি।

ইতোমধ্যে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

পাহাড়ি ঢলে দুটি বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে কৃষকরা ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বাঁধ কারও অবহেলায় ভাঙলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। বোরো ফসল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন উপমন্ত্রী।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023