বিনোদন ডেস্ক
টিভি নাটক বা চলচ্চিত্রে একক তারকা নির্ভরশীলতা ক্রমশ কমছে। বাড়ছে চরিত্র অভিনেতাদের দাপট। এর ভেতরে একাধিক ওটিটিতে গল্প নির্ভর যেকোনো চরিত্র রূপায়নে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শিল্পীদের কদর বাড়ছে।
গতবছর প্রয়াত হয়েছেন অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। টিভি, মঞ্চ এবং চলচ্চিত্রে ৫ শতাধিক প্রডাকশনে কাজ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, উন্মুক্ত বাজার তৈরি হচ্ছে। আগামীতে কোনো টিভি চ্যানেল যেমন টিভি নাটক নিয়ন্ত্রণ করবে না, তেমনি শুধু এফডিসি চলচ্চিত্রের একমাত্র নিয়ন্ত্রক হিসেবে থাকবে না। সেক্ষেত্রে আমাদের মতো যারা চারণশিল্পী, যারা মেথড অ্যাক্টিং করি তাদের কদর বাড়বে। আফসোস! আমি হয়তো সেদিন অবধি বাঁচবো কি-না জানি না।’
ঠিক একইভাবে ফজলুর রহমান বাবু, চিত্রলেখা গুহ, ফারুক আহমেদ, সাবেরী আলম, শাহনাজ খুশী, রুনা খান, মনিরা মিঠুসহ একাধিক গুণী অভিনয়শিল্পীদের চাহিদা বাড়ছে। কারণ এখন গল্প নির্ভর একাধিক কাজের ক্ষেত্রে যেমন বাজেট একটা বড় বিষয় তেমনি যেকোনো চরিত্রে মানানসই মেধাবী শিল্পীর সংখ্যা কম।
শাহনাজ খুশী বলেন, ‘আজীবন অভিনয়ের আনন্দে অভিনয় করে গেছি। তারকাখ্যাতির মোহ টানেনি কখনো। অভিনয়শিল্পীদের অপরিহার্যতা আগেও ছিল। তবে এখন সেটার ফোকাস একটু বেড়েছে।’
এদিকে চরিত্রাভিনেতাদের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে পুরনো হতাশা থেকেই যায়। অভিনয়শিল্পী মুকিত জাকারিয়া বলেন, ‘দেখুন, আমরা সংখ্যায় সর্বাধিক কাজ করি। পরিশ্রমটা আমাদেরই বেশি করতে হয়। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো আমাদের আনুপাতিক হারে সম্মানী বাড়ে না। অথচ একজন উঠতি তারকার এক-দুটি প্রডাকশন কিছু ভিউ বেশি পেলেই পরের প্রডাকশনে সে দাম হাঁকিয়ে দেয়। এই বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশার।’
ফজলুর রহমান বাবু এদেশের শক্তিমান একজন অভিনেতা। বর্তমান ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই ট্র্যাকেই কাজ করা উচিত ছিল। আজ নেটফ্লিক্স, এইচবিও ম্যাক্স-এ কেউ তারকা দেখে মুভি বা সিরিজ দেখছে না। গল্প সংক্ষেপ, ট্রেলর আর রিভিউ দেখে ছবি দেখছেন। যেখানে একজন অভিনেতার সাবলীল অভিনয়ই প্রধান। এখন এদেশে এসব অভিনয়শিল্পীদের সম্মান করতে হবে। তাহলেই ভালো ভালো কাজ হবে।’
নির্মাতা অনিমেষ আইচের সর্বাধিক কাজে অভিনয় করেছেন অভিনেতা ফারুক আহমেদ। অভিনয় শিল্পীদের অবস্থান প্রসঙ্গে অনিমেষ বলেন, ‘এখনকার সময়ই তাদের। ভারতে এখন শাহরুখের ছবি হিট হয় না, নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকীর ছবি, সিরিজ সবগুলো ব্লকবাস্টার। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো চকলেট হিরোদের ভেবে অনেকের গল্প লিখতে হয়, কিন্তু চরিত্রাভিনেতাদের ভেবে গল্প লেখার প্রয়োজন হয় না। দুর্দান্ত গল্প আর নির্মাণ পরিকল্পনা থাকলেই তারা অনায়াসে সেই চরিত্র বলে যেতে পারেন।’
উল্লেখ্য, খুব কাছাকাছি সময়ে মোস্তফা কামাল রাজের নির্মাণে ফ্যামিলি ক্রাইসিস সিরিজের মূল তারকা ছিলেন রুনা খান ও মনিরা মিঠু। পুরো সিরিজটাই তাদের অভিনয় রসায়নে দর্শক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাই ইন্ডাস্ট্রির এই কারিগরী বদলের পাশাপাশি শিল্পীদের অবস্থানগত পরিবর্তনও আসছে। দর্শকরা এখন নায়ক-নায়িকা নন, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাজ দেখার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।