প্রথম ইনিংসে মাত্র ৭৮ রানে অলআউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ প্রতিরোধ গড়েছিল ক্রিকেটের পরাশক্তি ভারত। তৃতীয় দিন রোহিত শর্মা-চেতেশ্বর পূজারা ও বিরাট কোহলির ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল ভারত। তবে সেই স্বপ্ন শেষ হয়েছে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে। বিরাট কোহলি ও পূজারা সাজঘরে ফিরে গেলে ধস নামে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপে।
ইংল্যান্ড বোলাদের তোপে নিয়মিত বিরতিতে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন আজিঙ্কা রাহানে, ঋষভ পান্ত ও রবীন্দ্র জাদেজারা। যেখানে মাত্র ৬৩ রান তুলতেই শেষের ৮ উইকেট হারায় সফরকারীরা। ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলার অলিভার রবিনসনের দারুণ এক স্পেলে ২৭৮ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত। তাতে ইনিংস ও ৭৬ রানের জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল ইংল্যান্ড। এদিন মাত্র ২৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন রবিনসন।
টেস্টের তৃতীয় দিন ২ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে ২১৫ রান যোগ করে ভারত। চর্তুথ দিন মাঠে নেমেই ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলার অলিভার রবিনসনের বোলিং তাণ্ডবে আউট হন পূজারা-কোহলি। ১২ ইনিংস পর হাফ সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া পূজারা প্যাভিলিয়নের পথে হেঁটেছেন ৯১ রান করে।
আর ভারতে অধিনায়ক বিরাট কোহলি আউট হন ১২৫ বলে ৫৫ রান করে। এরপর রাহানে ও পান্তরা কেউই উইকেটে এসে থিতু হতে পারেননি। রাহানে ১০ ও পান্ত সাজঘরে ফেরেন মাত্র ১ রান করে। এই দুই ব্যাটসম্যানকেও ফেরান রবিনসন। বোলিংয়ে এসে লর্ডসে হাফ সেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ শামিকে আউট করেন মঈন আলি। ইশান্ত শর্মাকে জস বাটলারের গ্লাভসে ক্যাচ বানিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেটে তুলে নেন রবিনসন। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেটের দেখা পেলেন ২৭ বছর বয়সী এই পেসার।
শেষের কাজটা সারেন ক্রেইগ ওভারটন। রবীন্দ্র জাদেজা ও জসপ্রিত বুমরাহকে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন ডানহাতি এই পেসার। ইংল্যান্ডের হয়ে রবিনসন পাঁচটি ও ওভারটন নিয়েছেন তিনটি উইকেট। এছাড়া একটি করে উইকেট নিয়েছেন মঈন ও জেমস অ্যান্ডারসন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ১ম ইনিংস: ৪০ ওভার ৪ বলে ৭৮ রান (রোহিত শর্মা ১৯, রাহানে ১৮, অ্যান্ডারসন ৩/৬, ওভারটন ৩/১৪)
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৩২ ওভার ২ বলে ৪৩২ রান (বার্নস ৬১, হামিদ ৬৮, মালান ৭০, রুট ১২১; শামি ৪/৯৫, সিরাজ ২/৮৬, জাদেজা ২/৮৮)
ভারত ২য় ইনিংস: ৮০ ওভারে ২৭৮ রান (রোহিত শর্মা ৫৯, পূজারা ৯১, কোহলি ৫৫, ওভারটন ৩/৪৭, রবিনসন ৫/৬৫)
ফলাফল: এক ইনিংস ও ৭৬ রানে জয়ী ইংল্যান্ড