স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
আফগানিস্তানে সশস্ত্র বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তালেবানের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশও এর বাইরে থাকবে না। এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত থাকতে হলে সরকারকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান দলটির নেতারা।
এ প্রসঙ্গে আলোচনায় দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াতের দোসরদের মুখে আমরা শুনেছি, “আমরা হবো তালেবান, বাংলা হবে আফগান।” তালেবানের ক্ষমতা দখলে দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা ওই সব সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী কিছুটা উল্লসিত হয়েছে। আমাদের নজরে রাখতে হবে ওই মহলটির তৎপরতা কী তা নিয়ে। তারা কোনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় কিনা। তবে তারা এও বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও আফগানিস্তানের সংস্কৃতি আলাদা। তবু ষড়যন্ত্রকারীরা কোনও জাল বুনতে যেন না পারে, এ জন্য বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসরদের কর্মকাণ্ডের প্রতি সর্বদা নজর রাখতে হবে।
আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘তালেবানের আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল বিশ্ব রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নির্ভর করবে তালেবানের রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি কী হবে তার ওপর।’ তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের নীতির পরিবর্তন ঘটলে এ ক্ষেত্রে ইতিবাচকও হতে পারে। আমাদের খেয়াল করতে হবে যুদ্ধ জয়ের পর তালেবানের ব্যবহার কী হয় সেদিকে।’
ফারুক খান বলেন, ‘আমাদের দেশের রাজনীতির দিক থেকে বিবেচনা করলে সরকারকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, বিএনপি-জামায়াতের দোসরদের মুখে ইতোপূর্বে আমরা শুনেছি এমন স্লোগান, “আমরা হবো তালেবান, বাংলা হবে আফগান।” এসব ব্যাপার মাথায় নিয়ে এগোতে হবে সরকারকে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা ওই সব সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী কিছুটা উল্লসিত।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘তালেবানের সশস্ত্র বিপ্লবের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল সাউথ এশিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, তারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসেনি। তাই কিছুটা হলেও অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে তাদের ক্ষমতা দখল। তালেবান চিন্তা-চেতনায় পশ্চাৎমুখী। ফলে সামাজিক অর্থনৈতিক ধাক্কাও আসবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের কিছু উগ্র মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী উল্লসিত তালেবানের বিপ্লবে। আমাদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। পর্যবেক্ষণ করতে হবে তালেবানদের কর্মকাণ্ড। এখনি চূড়ান্ত কোনও মন্তব্য করা যাবে না।’
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এ ব্যাপারে বলেন, ‘আফগানিস্তান প্রাচীনকাল থেকেই একটি অস্থির জনপদ। সেখানে কখনোই স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। তারা নিজেরা যেমন অন্য জাতির ওপর বারবার আঘাত হেনেছে, তেমনি অন্য জাতি বা জাতিসমূহ দ্বারা শাসিত হয়েছে। ফলে একটি অস্থির পরিবেশ সব সময় সেখানে বিরাজ করেছে। শাসকরা কখনোই আফগানিস্তানের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে পারেনি। ফলে বারবার নানা ধারার পরিবর্তনের সৃষ্টি হয়েছে। এবারের পরিবর্তনও তারই ধারাবাহিকতা।’
স্বপন বলেন, ‘দূরে বসে তালেবানের চলমান উত্থান এবং এর প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই অবজারভেশন দেওয়া দুরূহ। তবে, এটুকু বলতে পারি, তালেবানের এই উত্থানের মূল্য শুধু আফগানিস্তান নয়, সমগ্র বিশ্বকে বহন করতে হবে কিছু দিনের জন্য।’