মাস্ক ছাড়াই গণটিকার ক্যম্পেইন পরিদর্শনে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১

মুক্তজমিন ডেস্ক

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যম্পেইনে বিভিন্ন কেন্দ্রে নেই সামাজিক সুরক্ষার বলয়। নেই সাধারণ মানুষের মাঝে করোনা সচেতনতা। যে যার মতো আসছে ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে টিকা নিয়ে যাচ্ছে।

শুধু সাধারণ মানুষ না স্বয়ং সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুজ্জামান নিজেও মাস্ক ছাড়া টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করায় জনমনে না প্রশ্ন জেগেছে। টিকা দেয়ার ৩০ মিনিট কেন্দ্রে থাকা পর্ববর্তী কী কী করণীয় এ বিষয়ে নেই সচেতনতা।

দেখা যায়, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ১০ নং বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যম্পেইন দুর্গপুর শাহজাহান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়। টিকাদানে নেই সামাজিক দূরত্ব। নেই কোনো মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা।

বিষয়টি সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিনের মোবাইল ফোনে জানানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরই কেন্দ্রে চলে আসেন সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পা কর্মকর্তা ডা. আরিফুজ্জামান। তিনি এসে কেন্দ্রে নারী ও পুরুষদের বুথগুলো পরিদর্শন করেন। কিন্তু মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। এমন দৃশ্য দেখার পরে জনমনে নানা প্রশ্ন জাগে।

দুর্গাপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ বলেন, হামরা গরিব মানুষ হামরা মাস্ক কিনবার পারি না বলে মাস্ক পরি না। যার উপর আমাদের দেখভালের দায়িত্ব তার মাস্ক নেই। এটা কেমন হয়।

বোনারপাড়া ইউনিয়নের জিহাদ সরকার বলেন, একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাস্ক ছাড়া কেন্দ্র পরিদর্শ করলো তাহলে সাধারণ জনগন সচেতন হবেন কিভাবে। এই অসচেতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেয়া দরকান। তা না হলে করোনার ভাইরাস মোকাবেলার চেয়ে আরো বাড়বে।

কোভিড-১৯ টিকা নিতে আসা যুবক শওকত আলী জানান, মাস্ক ছাড়াই করোনার টিকা নিলাম। কেউ কোনো বাধা দেয়নি। টিকা নেয়ার পর কী করণীয় এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

এমন নানা বিষয়ে প্রশ্ন করলে ডা. আরিফুজ্জামান সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ছবি তুলতে বাধা দেন। তিনি বলেন, আসলে সবাই মাস্ক পরুক, এটা আমি আশা করি। আমারও মাস্ক পরা দরকার ছিল।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ওনারাই (ডা. আরিফুজ্জামান) করোনাকালীন সময়ে প্রথম শ্রেণীর যোদ্ধা। হয়তো অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে। এমন ঘটনা আসলেই দুঃখজনক।

উল্লেখ্য, শরিবার সকাল ৯টায় করোনা প্রতিরোধে গণটিকা দেয়া শুরু হয়েছে। টিকা প্রদান কার্যক্রমের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম, সিভিল সার্জন আ.খ.ম আখতারুজ্জামান, পৌর মেয়র মতলুবর রহমান প্রমুখ।

গাইবান্ধা জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার ৭ উপজেলার ৮২ ইউনিয়ন ও ৩ পৌরসভায় প্রতিটি টিকাকেন্দ্রে ৬শ’ জন করে একযোগে টিকা প্রদান শুরু করা হয়। সকাল থেকে গাইবান্ধার ৭ উপজেলায় মোট ৫২ হাজার ২শ’ ডোজ টিকা দেয়া হবে। বিকাল ৩টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023