স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
লকডাউন সত্ত্বেও মানুষ পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছেড়ে গেছে। একদিকে করোনা, অন্যদিকে ঈদ- এই দুইয়ে মিলে অনেকটাই জনশূন্য হয়ে গেছে ঢাকা। সরকারি অফিস-আদালত খোলায় সেই শূন্যতা কাটিয়ে অল্প অল্প করে সরব হচ্ছে ব্যস্ততম নগরীটি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লকডাউনের বাধা উপেক্ষা করে বহু মানুষ ঈদ করতে গ্রামে চলে গেলেও স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়াও একটা অংশ ঢাকায় থেকে গিয়েছিল। যারা করোনা, যানজট, ছুটি কম থাকাসহ নানা ঝক্কি-ঝামেলা পেরিয়ে গ্রামে ঈদ করতে যাননি। ফলে এবার ঢাকায় অনেকেই ঈদ করেছেন। তারপরও করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি থাকায়, বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকাসহ নানা কারণে ঈদের দিন অনেকটাই ফাঁকা ছিল ঢাকা। তবে সেই ফাঁকা ঢাকা অল্প অল্প করে সরব হতে শুরু করেছে।
রোববার (১৬ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাস, লেগুনা, সিএনজি, প্রাইভেটকার, রিকশাসহ ঢাকার অন্যান্য যান চলাচল করছে। অফিস-আদালত খোলা থাকায় রাস্তায় মানুষের আনাগোনাও রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অল্প অল্প রাস্তায় বের হচ্ছেন। দোকানপাটও অল্প অল্প করে খুলতে শুরু করেছে। এছাড়া ফুটপাতের দোকানগুলোও বসতে শুরু করেছে।
এদিকে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী পরিবহনগুলোর অধিকাংশই ঈদের দিন থেকে আজ পর্যন্ত কোনো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না। দুই সিটে একজনের পরিবর্তে প্রতি সিটে একজন করে যাত্রী বহন করছে। আজও তার ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।
রাজধানীর গুলশান ১ নম্বর মোড়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করা মো. ফিরোজ নামে এক রিকশাচালক বলেন, তার গ্রামের বাড়ি ভোলায়। গ্রামে বাবা-মা, পরিবারের অন্যান্য লোকজনও আছেন। কিন্তু ঈদ করতে গ্রামে যেতে পারেননি। কারণ যাওয়া-আসাসহ অন্যান্য বিষয়সহ কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা এবার খরচ আছে। এত টাকা খরচের অবস্থা নেই তার। তাই ঢাকাতেই ঈদ করেছেন। কিন্তু ঈদের দিন রিকশা চালাননি। তারপর দিন থেকে রিকশা চালাচ্ছেন, যাত্রীর সংকট হচ্ছে না।
মো. ইউনিছ নামের আরেক রিকশাচালক বলেন, ঈদের দিন, তারপরের দিন রিকশা চালিয়েছি। আজও বেরিয়েছি। ঈদ উপলক্ষে যাত্রী যেমন কমেছে, রিকশার সংখ্যাও কমেছে। তাই যাত্রীর সংকট হয়নি। এদিকে ঈদের পর থেকে রিকশার সংখ্যাও বাড়ছে, যাত্রীও বাড়ছে।