ডেস্ক রিপোর্ট
খুলনার তেরখাদা উপজেলার কাটেঙ্গা বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী ফিরোজ শেখের (৩৫) হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এ মামলা থেকে চারজনকে খালাস দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. ইয়ারব হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ১৩ জন আসামির মধ্যে একজন পলাতক ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ফরিদ মোল্লা, মিসবাহ মোল্লা, মোর্তজা মোল্লা ও টুটুল মোল্লা। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মুক্ত মোল্লা, শহিদুল শিকদার, সেলিম শিকদার, নাসির শিকদার ও মেহেদী মোল্লা।
আর খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, খালিদ মোল্লা, নাজমুল শিকদার, রাজা শেখ ও ওসমান ফকির। আসামিদের সবাই তেরখাদা উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এম ইলিয়াজ খান রায়ের এ তথ্যটি নিশ্চত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৫ আগস্ট ওষুধের দোকান বন্ধ করে ভ্যানচালক আরিফ মোল্লাকে সঙ্গে করে বাড়ির উদেশ্যে রওনা দেন। পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মুন্সী বাড়ির দক্ষিণ পাশে পৌঁছানো মাত্রই সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা করে। সন্ত্রাসীরা দেশীয় তৈরী অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ কুপিয়ে জখম করে।
পরে ফিরোজ শেখ ও তাকে বহনকারী ভ্যানচালকের চিৎকারে পাশের লোকজন ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে তেরখাদা হাসপাতালে নেয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ৩টায় মারা যান। পরে ওই ঘটনায় তিনদিন পর নিহতের ভাই হিরু শেখ বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে তেরখাদা থানায় মামলা দায়ের করেন, যার নং ৯।
২০১৩ সালের ১৬ জুন খুলনা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মিঠু রানী দাস ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।