নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নুন্দহ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ধ্বংসে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা ) মাসুম আলী বেগ। জনশ্রুতি রয়েছে, এই ষড়যন্ত্রের কলকাঠি নাড়ছেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নাশকতা মামলার হকুমের আসামি শিক্ষক হাছানাত আলী। এ নিয়ে স্থানীয় জনসাধারনের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। পাশাপাশি মাদ্রাসার সভাপতি পদ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা ) মাসুম আলী বেগ এর পদত্যাগ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক হাছানাত আলী নিজেকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফাঁদা লোটে থাকে। ছাত্রজীবনে ছাত্র শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হাছানাত আলী বর্তমানে জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদে রয়েছে।
জানা যায়, নন্দীগ্রাম উপজেলার বগুড়া-নাটোর সড়কের পাশে ১৯৪৭ সালে নুন্দহ মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারের (এমপিও) আওতায় আসে। ফাজিল অর্থাৎ ডিগ্রি পর্যায়ের এ মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রায় ৬০০ ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এই মাদ্রাসাটি নিয়ন্ত্রনে রাখার লক্ষ্যে ২০০৮ সালের দিকে হাছানাত আলী মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিতে আসীন হয়। এরপর হাছানাত আলীর নেতৃত্বেই প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমানকে উপাধ্যক্ষ এবং পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে মূল ভূমিকা পালন করেন। ২০১০ সালের দিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে হাছানাত আলীর দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
আর এই দ্বন্দ্বের কারণ হলো ২০১০ সালে আল ফোরকান ফাউন্ডেশন কর্তৃক ১৭ লাখ টাকায় নির্মিত মসজিদ। হাছানাত আলী আল ফোরকান ফাউন্ডেশনের বরাদ্দের এই টাকা নিজের টাকা দাবি করে অধ্যক্ষের কাছে ৬ লাখ টাকা নিজের ও তার স্ত্রী রাহেলা পারভীনের নামে ৬ লাখ টাকার দানের রশিদ চায়। অধ্যক্ষ রশিদ দিতে অপারগতা প্রকাশ করার পর থেকেই নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় হাছানাত আলী । ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উপজেলা জাসদের সভাপতি ১৪ দল নেতা কামরুজ্জামান কামরুলের কমিটির মেয়াদ থাকার পরেও তাকে অপসারণ করে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা ) মাসুম আলী বেগকে সভাপতি বানিয়ে আনেন।
একই সঙ্গে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যের ভাই জামাল উদ্দিনকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য নিযুক্ত করে নতুন খেলায় মেতে উঠেন। আর এই খেলায় সম্পৃক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা ) মাসুম আলী বেগ। তিনি সরকারি কর্মকর্তা হওয়া স্বত্ত্বে অতি উৎসাহী হয়ে ছাত্রজীবনে ছাত্র শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও বর্তমানে জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদে থাকা হাছানাত আলীর দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা ) মাসুম আলী বেগ দেশরত্ন শেখ হাসিনার আদর্শ বাস্তবায়ন করছেন নাকি জামায়াত-বিএনপির এজন্ডা বাস্তবায়ন করছেন সেটিই এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা ) মাসুম আলী বেগ এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার সাক্ষাত পাওয়া যায়নি।