স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ায় করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর শুনে পালিয়ে যাওয়া সেই ব্যক্তির সন্ধান অবশেষে মিলেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার শেখেরকোলা গ্রামের নিজ বাড়িতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার তাকে সেখানেই লকডাউন করা হয়েছে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার শহরের ফুলতলা এলাকার ভাড়া বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী এবং ১২ বছরের ছেলের সন্ধান পাওয়া যায়। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সেই বাড়িসহ আশ-পাশের ৪টি বাড়িও লকডাউন করা হয়।
শেখেরকোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান ডালিম জানান, ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে ফোনে তাকে করোনা পজিটিভ বলে জানানোর পর স্ত্রী অস্বাভাবিক আচরণ করা শুরু করেন। সেই পরস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তিনি রাতে পালিয়ে গ্রামে চলে আসেন। কামরুল হাসান ডালিম জানান, আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি ওই ব্যক্তির স্ত্রী পেশায় নার্স এবং বগুড়ার সরকারি একটি হাসপাতালে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘একজন নার্স হয়েও কেন তিনি দায়িত্বশীল আচরণ না করে উল্টো স্বামীর সাথে এমন করলেন সেটা একটা বড় প্রশ্ন হয়েই থাকবে।’
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুস্তাফিজুর রহমানের দেওয়া তথ্য মতে, ঢাকার একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই ব্যক্তি গত ১০ এপ্রিল তিনি বগুড়া শহরে ফুলতলা এলাকায় তার ভাড়া বাড়িতে আসেন। জ্বর এবং কাশি থাকায় পরিবারের সদস্যদের চাপে গত ২৬ এপ্রিল তিনি নমুনা দেন। এরপর ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যার একটু আগে ঘোষিত ফলাফলে তিনি করোনা পজিটিভ বলে চিহ্নিত হন। রিপোর্টের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনে বিষয়টি তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর পরই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এবং প্রশাসন নিয়ম অনুযায়ী ওই ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করতে যান। রিপোর্টে শুধু ফুলতলা এলাকা লেখা থাকার কারণে রাতভর এমনকি বুধবার বিকেল পর্যন্ত অনেক খুঁজেও তার বাড়ির সন্ধান বের করা যায়নি। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় সেই ব্যক্তির অবস্থানও জানা যায়নি।
বগুড়া পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খোরশেদ আলম জানান, অবশ্য অনেক চেষ্টার পর বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ফুলতলা এলাকায় ওই ব্যক্তির বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে ওই ব্যক্তিকে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রী এবং ১২ বছরের এক ছেলেকে পাওয়া যায়। এরপর ওই বাড়িসহ আশপাশের ৪টি বাড়ি লকডাউন করা হয়।
শেখেরকোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল হাসান ডালিম জানান, ওই ব্যক্তি তার নিজ গ্রামে পালিয়ে এসেছেন এমন খবর পাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। বগুড়া সদর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ফোর্স পাঠিয়ে ওই ব্যক্তির বাড়িটিকে লকডাউন করা হয়েছে।