স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ায় অবশেষে করেনাভাইরাস সনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু হলো। সোমবার দুপুরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) মাইক্রোবায়লোজি বিভাগে পিসিআর (পলিমার চেইন রি-অ্যাকশন) ল্যাব উদ্বোধন করা হয়। কিছু আনুষ্ঠানিকতার কারণে উদ্বোধনী দিনে বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে সংগৃহিত কোন নমুনা নতুন ওই ল্যাবে পাঠানো হয়নি। তবে সেখানে স্থানীয়ভাবে ৪ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে সংগৃহিত নমুনাগুলো শজিমেকের ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানিয়েছেন, ১৯ এপ্রিল সংগ্রহ করা ৩৭টি নমুনা শেষবারের মত রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে পাঠানো হয়। এরপর ২০ এপ্রিল থেকে সংগৃহিত নমুনাগুলো যথারীতি শজিমেক ল্যাবে পাঠানো হবে। শজিমেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রেজাউল আলম জুয়েল জানান, মঙ্গলবার থেকে নতুন ওই ল্যাবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার কাজ চলবে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হবে। বগুড়া ছাড়াও আশ-পাশের জেলাগুলোর নমুনাও এখানে পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে।’
বাংলাদেশে ‘নভেল করোনা’ নামে প্রাণঘাতি এই ভাইরাসটির অস্তিত্ব গত ৮ মার্চ ধরা পড়ে। তারপর থেকেই ওই ভাইরাসে আক্রান্ত এবং তাতের মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলেছে। শুরুতে শুধুমাত্র ঢাকার একটি স্থানেই করোনাভাইরাস সনাক্তকরণের ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে পরবর্তীতে তা দেশের অন্য বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজগুলোতেও চালু করা হয়। রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার জন্য মার্চের শেষ সপ্তাহে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে করোনাভাইরাস সনাক্তকরণ যন্ত্র পলিমার চেইন রি-অ্যাকশন (পিসিআর) স্থাপন করা হয়। তার পর থেকে সেখানেই বগুড়ার নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছিল।
তবে একাধিক জেলার নমুনা পরীক্ষার কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে রিপোর্ট পেতে কমবেশি ৪৮ ঘন্টা লেগে যায়। এতে সন্দেহভাজন রোগী এবং তাদের স্বজনদের উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়। চিকিৎসকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে বগুড়ায় শজিমেকের মাইক্রোবাইলোজি বিভাগে পিসিআর স্থাপনের দাবি উঠতে থাকে। তার পরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এপ্রিলের প্রথম দিকে শজিমেকের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পিসিআর স্থাপনের কাজটি খুব দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য ওই বিভাগের একটি কক্ষকে প্রস্তুত করা হয়। সেখানে ৪টি ইনক্লোজার, সিলিং এবং পাশাপাশি দুটি টয়লেটসহ অন্যান্য নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। এরপর গত ৮ এপ্রিল পিসিআর যন্ত্র আনা হয় এবং তা স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ঢাকা থেকে আসা দু’জন অ্যাপ্লিকেশন ইঞ্জিনিয়ার পিসিআর যন্ত্রটি পরিচালন পদ্ধতি ল্যাবটেকনিশিয়ানদের হাতে-কলমে শিখিয়ে দেন। কলেজের মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষক তথা ১১জন চিকিৎসক এবং ১৭জন ল্যাব টেকনিশিয়ানকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এসব কার্যক্রম সম্পন্নের পর বগুড়া শজিমেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, ১৮ এপ্রিল থেকে করেনা সনাক্তকরণের কাজ শুরু হবে। তবে শেষ মুহুর্তে ল্যাব টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসকদের জন্য প্রয়োজনীয় ঘ৯৫ নামের বিশেষ ধরনের মাস্ক সংকটের কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঢাকায় লোক পাঠিয়ে ১৯ এপ্রিল সেগুলো আনার পর ২০ এপ্রিল বহুপ্রতিক্ষিত পিসিআর ল্যাবটির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম এম সালেহ ভুইয়া, বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ, পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা, বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গাওসুল আজিম চৌধুরী, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয়, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ডা. সামির হোসেন মিশু, শজিমেকের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহসীনা শহীদ আলম, শজিমেক হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ ও বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএসের উপ-নির্বাহী পরিচালক ডা. মতিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
শজিমেকের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রেজাউল আলম জুয়েল জানান, তারা পরীক্ষার ফলাফল সরাসরি ঘোষণা করবেন না। প্রাপ্ত নমুনাগুলো পরীক্ষার পর তার ফলাফল তারা নিয়ম অনুযায়ী রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা কেন্দ্রে (আইইডিসিআর) পাঠাবেন। সেখান থেকেই পরবর্তীতে সিভিল সার্জন অফিসে জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘একটি নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রায় ৪ ঘন্টা সময় লাগে। এজন্য আগের মত ৪৮ ঘন্টা বা তার বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা ধারণা করছি প্রতিদিন সংগৃহিত নমুনা পরীক্ষার ফলাফলগুলো আমরা ওইদিনই আইইডিসিআরে জমা দিতে পারবো।