শিরোনাম :
তিস্তা প্রকল্পের ‘লক্ষ্য তৃতীয় পক্ষ নয়, হস্তক্ষেপের বিষয়ও নয়: চীন বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ছোট ভাইয়ের ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলায় স্ত্রী-ছেলেসহ ৩জন আহত ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯ দেশজুড়ে আজান নিষিদ্ধের পরিকল্পনা নিয়েছে ডেনমার্ক গোবিন্দগঞ্জে পুকুরে প্রদর্শনী খামার স্থাপনে উপকরণ বিতরণ মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী গাবতলীতে নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা দিল্লির সীমান্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উদ্বেগ সীমান্ত হত্যা ও পুশইন দেশে ফিরলেন ৫২ হাজার ৪৯১ হাজি, মৃত্যু ৪৯ জনের

করোনাভাইরাস
সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। ওই রিটে দেশের স্থল ও নৌবন্দর বন্ধের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

 

 

রোববার (১৫ মার্চ) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অধিকাংশ দেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। পাশের পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করায় অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

অনেক অভিভাবক ইতিমধ্যে নিজ উদ্যোগেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। এ কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। অভিভাবকরা বলছেন, স্কুল-কলেজগুলো বন্ধ না করে সরকার এখন কী দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ার পর বন্ধ করা হবে?

 

 

তারা বলছেন, কোনো স্কুলে যদি করোনা আক্রান্ত একজনকেও পাওয়া যায় তাহলে কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে স্কুলের প্রায় সবাইকে। ছোটো ছোটো শিশুদের কীভাবে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হবে। তারা কী বাবা-মা ছাড়া একা থাকতে রাজি হবে। হোম কোয়ারেন্টাইনও কি শিশুদের দিয়ে সম্ভব হবে?

 

সরকার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে স্কুল বন্ধ না করে অ্যাসেম্বলি মাঠে না করে শ্রেণিকক্ষে আয়োজনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে একটি সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে। এমন বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও।

 

 

অভিভাবকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের রোগ প্রতিরোধে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে স্কুলের চেয়ে জনসমাগম আর কোথায় বেশি হয়। স্কুলে প্রবেশ এবং ছুটি হবার সময় বের হতে গিয়ে স্কুলের ছোটো গেট দিয়ে একে অপরের সংস্পর্শে সবচেয়ে বেশি আসে। ছোট্ট একটি ক্লাসরুমে ৭০ থেকে ৯০ জন শিক্ষার্থী চার-পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান করে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে একটি বেঞ্চে চার-পাঁচ বা ছয় জন পর্যন্ত গাদাগাদি করে বসে। ফলে কোনো শিক্ষার্থী ভাইরাসের সংক্রমণ হলে তা অন্য শিক্ষার্থীর মধ্যে ছড়নোর আশঙ্কা থাকে।

 

স্কুল ছাড়াও আতঙ্কে রয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। তারা গণপরিবহনে চড়ে আসে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা পালন করা শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আবাসিক হলে প্রতিটি কক্ষে চার-পাঁচ জন করে থাকে । গণরুমে থাকে ৩০ থেকে ৪০ জন। ফলে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লেও অন্য সবার অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

 

 

স্কুল-কলেজ বন্ধের বিষয়ে গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, স্কুল-কলেজ বন্ধের একটা দাবি এসেছে। এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে চিন্তাভাবনা নেই, এমনটা নয়। আমাদের এখানে বিষয়টা সেই পর্যায়ে আসেনি, নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার খবর পাইনি। আমাদের এখানে বিষয়টি যদি খারাপভাবে মোড় নেয় বা স্কুল-কলেজ বন্ধ করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তাহলে অবশ্যই সেটা করা হবে।

 

স্কুল-কলেজ বন্ধ অধিকাংশ দেশে

করোনার কারণে শনিবার পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গে সব স্কুল-কলেজ ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে সেখানের হোস্টেলে থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তরাখন্ডের বিভিন্ন স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। পাকিস্তানে মাত্র ২৮ জন করোনা আক্রান্ত হলেও সিন্ধু প্রদেশের স্কুলগুলো ৩০ তারিখ পর্যন্ত ছুটি বাড়িয়েছে সরকার। শ্রীলঙ্কায় প্রথম করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়ার পরই দেশ জুড়ে ১৩ মার্চ থেকে সব স্কুল বন্ধ করে দেয় সরকার। নেপালেও স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা জারি করায় অন্তত ১২টি অঙ্গরাজ্যের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ব্রাজিলে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে।

 

করোনা মোকাবিলায় পদক্ষেপ হিসেবে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্তাসিয়াডিস ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023