স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
একসময় নৌকাই ছিল কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের লোকজনের একমাত্র যানবাহন। যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের কাজে নৌকা ছাড়া অন্য কোনও যানবাহনের কথা চিন্তাও করা যেতো না। বর্ষা মৌসুমের ছয় মাস নৌকা দিয়ে যাতায়াত চললেও শুকনো মৌসুমে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতেন হাওরবাসী। সেই অবস্থা বদলে গেছে। হাওর বেষ্টিত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাবমার্সিবল ও অল ওয়েদার রাস্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাঁচটি ফেরি। ফলে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা থেকে প্রাইভেটকার বা বড় গাড়িতে যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া তিনটি হাওরাঞ্চলের থানায় যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছে তিনটি পিকআপ। স্থানীয়দের আশা, সড়কপথে যোগাযোগ চালু হওয়ায় তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে।
২৬ জানুয়ারি বালিখোলা, চামড়া, বরিবাড়ি, বলদা ও শান্তিপুরে পাঁচটি ফেরিঘাটের উদ্বোধন করা হয়। ফেরি সার্ভিস চালুর মাধ্যমে হাওরে শুরু হলো চার চাকার যানের চলাচল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাওরাঞ্চলের মানুষ স্বপ্নেও কল্পনা করেনি হাওরে পাকা রাস্তা হবে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা বলেন, সবই তার একান্ত ইচ্ছার ফসল। তিনি হাওরের মাটিতে বড় হয়েছেন। এখানকার মানুষের আবেগ ও সমস্যার কথা বুঝতে পারেন। আগে চামটাবন্দরে যেতে প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগতো। আর কিশোরগঞ্জ থেকে নৌকায় করে হাওরের বাড়ি পৌঁছাতে রাত হয়ে যেতো। এখন রাস্তা ও ফেরি হওয়ায় এক ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। এছাড়া জিনিসপত্র বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারছি।
হাওর এলাকার চাকরিজীবীরা জানান, পাকা সড়ক আর ফেরি হওয়াতে কিশোরগঞ্জ থেকে এসে হাওরের যে কোনও উপজেলায় চাকরি করা যাবে। আগে সপ্তাহে একবার বাড়ি যেতে পারতাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যবসা সংক্রান্ত কাজ আগে কখনোই একদিনে শেষ করে বাড়ি ফেরা যেতো না। এখন দিনের কাজ দিনেই শেষ করে বাড়ি ফিরতে পারছি। তাছাড়া পণ্য পরিবহনে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। সঠিক জায়গায় সঠিক সময়ে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম জানান, কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট-মিঠামইন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ২০১১ সালে শুরু হয়। প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়েছে গত বছর জুনে। এর ফলে হাওরাঞ্চলের লোকজন কিশোরগঞ্জ হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহজেই যেতে পারবে। তাছাড়া হাওরে উৎপাদিত ফসল ও মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিবহনে সুবিধা হবে। এর ফলে হাওরাঞ্চলে অর্থনীতির ব্যাপক পরিবর্তন হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে এক হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে সারাবছর চলাচল উপযোগী ৪৭ কিলোমিটার উঁচু পাকা সড়ক ও ৩৫ কিলোমিটার সাবমার্সিবল সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ২২টি সেতু, ১০৪টি কালভার্টসহ বিভিন্ন নদীতে ৫টি ফেরি চালু করা হয়েছে।