স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন এলাকায় মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৯ দালালের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। টেকনাফ থানায় দায়ের হওয়া এ মামলায় মঙ্গলবার আটক চার দালালসহ তাদের সহযোগী আরো ১৫জনকে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রলারে করে রোহিঙ্গা নারী-শিশুকে বিদেশ পাচারে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মঙ্গলবার আটক চার দালালরা হলেন, টেকনাফের নোয়াখালী পাড়ার ফয়েজ আহম্মদ (৪৮), সৈয়দ আলম (২৭), উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আজিম (৩০) এবং বালুখালীর ওসমান (১৭)। তারাও সেই ট্রলারে ছিল।
এদিকে, ট্রলার ডুবির ঘটনায় আরো তিন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছে অভিযানকারী নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ও মঙ্গলবার রাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের তীর থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়। তাদেরকে সেন্টমার্টিন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সেন্টমার্টিন স্টেশন কমান্ডার লে. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা। বুধবার সকালে সেন্টমার্টিনের স্থলভাগ থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় আরো একজন রোহিঙ্গা যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। সে কথা বলতে অক্ষম হওয়ায় তার নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। তাকে সেন্টমার্টিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে আরো দুজনকে একই ভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদেরও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ট্রলার ডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ নারী ও ৩ শিশুসহ ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৭৪ জনকে। মরদেহগুলো ক্যাম্পে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার জীবিতদেরও স্ব স্ব ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।
কক্সবাজারের জেলা অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, দালালরা আবারো রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে টার্গেট করে হঠাৎ পাচার শুরু করায় আমরাও একটু চিন্তিত। এত কড়াকড়ির পরও ভিকটিমদের কারণে দালালরা দুঃসাহস দেখিয়েছে। আমরা রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নজরদারি আরো বাড়িয়েছি। মানবপাচারকারীদের ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার গভীর রাতে বাহারছড়া উপকূল থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে দুইটি ট্রলার সাগর অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। সেন্টমার্টিন সংলগ্ন সাগরে ভোরের দিকে একটি ট্রলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ট্রলারে থাকা জনৈক আব্দু ৯৯৯ নম্বরে কল করে বাঁচার আকুতি জানানোর পর কোস্ট গার্ড উদ্ধার অভিযানে যায়। ট্রলারে ১৩৮ জন যাত্রী ছিল বলে দাবি করেছে জীবিত উদ্ধাররা। সে হিসেবে এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড দ্বিতীয় দিনের মতো সাগরে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।