করোনা ভাইরাসের বাহক মানুষও!

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় বুধবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২০

ডেস্ক রিপোর্ট

চীনের একটি সি-ফুড মার্কেট থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। রহস্যময় এই ভাইরাসের কোনও চিকিৎসা নেই। এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির বিপরীতে তৈরি হয়নি কোনও ভ্যাকসিন। এ কারণে সাবধানতা অবলম্বন ও সচেতন থাকার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। রোগ ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে নজরদারিও জোরালো করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আজ (২২ জানুয়ারি) জরুরি বৈঠকে বসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অ্যাডভাইজারি গ্রুপ। বৈঠকে বিষয়টি যদি ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন’ হিসেবে উঠে আসে তাহলে রোগটিকে ‘মহামারী’ বলে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

জানা যায়, সম্প্রতি চীনের উহান শহরের একটি সি-ফুড মার্কেট থেকে নতুন করোনা ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেটি জাপান, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, চীনে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। আবার একই পরিবারের তিন জন আক্রান্তেরও খবর পাওয়া গেছে, যাদের একজন উহানের সি-ফুড মার্কেটে গিয়েছিলেন। এখান থেকেই ধারণা করা হচ্ছে ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হচ্ছে। তবে দেশটির সরকারি হিসেবে সোমবার পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২৩ জন। উহান ছাড়াও বেইজিং ও সাংহাইতেও আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তবে সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ভাইরাসটি চীনের ১৩ প্রদেশে ছড়িয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে ৪৪০ জন আর মারা গেছেন ৯ জন। দুই দিনের মাথায় এত বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ভাইরাসটি ‘রেপিডলি স্প্রেড’ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সংক্রামক এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জন চিকিৎসা কর্মীও রয়েছেন।

এরআগে করোনা ভাইরাসের পরিবারভুক্ত মার্স ও সার্স ভাইরাস মহামারী আকার নিয়েছিল। একই পরিবারভুক্ত নতুন করোনা ভাইরাসটি ভাইরাল নিউমোনিয়াকে মহামারীর দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ভাইরাসের অন্যতম লক্ষণ হলো, জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসকরা বলনে, তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণে রোগী মৃত্যুবরণ করতে পারেন।

ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বিপরীতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ভালো বলে দাবি করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এস এম আলমগীর। তিনি  বলেন, এন কোরনা ভাইরাস বাংলাদেশে আসতেও পারে, তবে এর জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা চীন থেকে বা আক্রান্ত দেশগুলো থেকে ফ্লাইট এলে যাত্রীদের থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি যাত্রীদেরকেও সাবধানে থাকতে হবে, তারা যেন বিমানবন্দর থেকে হেলথ কার্ড নিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, কারও যদি চীন ভ্রমণের ইতিহাস থাকে, তাহলে ১৪ দিনের ভেতরে আইইডিসিআরের হটলাইনে অথবা যেকোনও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

তিনি বাংলাদেশ থেকে চীনে যাওয়া যাত্রীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে চীনে শুরু হবে নববর্ষের ছুটি। তখন সেখানে অনেক মানুষের সমাগম হবে। আর তখন এই নতুন ভাইরাস আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে এরআগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছে ভাইরাসের উৎস কোনও প্রাণী। কারণ, নতুন ভাইরাসটিতে প্রথম আক্রান্ত হয়েছেন চীনের উহান শহরের একটি সি-ফুড মার্কেট থেকে।

এ কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীন থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। বিমানবন্দরে কর্মরতদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডা. এস এম আলমগীর  বলেন, বাংলাদেশে চীনের উহান থেকে সরাসরি ফ্লাইট না থাকলেও বিমানবন্দরে বিশেষ স্ক্রিনিং শুরু করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। এছাড়া চায়না, হংকং, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড থেকে আসা কারও যদি জ্বর থাকে তাহলে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করছেন।

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতেও ইতোমধ্যে অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যদি রোগী পাওয়া যায় তাহলে তাদের পরীক্ষা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যেহেতু এর কোনও স্পেসিফিক চিকিৎসা নেই, তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে সিম্পটোমেটিক চিকিৎসা চলবে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান  বলেন, এই নতুন ভাইরাসটি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায় এবং প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হয়। অন্যান্য সমস্যার সঙ্গে যদি তীব্র শ্বাসকষ্ট হয় তখনই রোগী মারা যায়।

এটা নতুন ধরণের ভাইরাস, এর কোনও ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি এবং চিকিৎসাও নাই। আর চিকিৎসা যেহেতু নেই, তাই এর প্রতিরোধ জরুরি। এজন্য আক্রান্ত দেশগুলো থেকে যারা আসছেন তাদেরকে বিমানবন্দর থেকেই মনিটরিংয়ের ভেতরে রাখতে হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023