এম. এ. করিম
নতুন করে করারোপ ছাড়া আধুনিক, পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন মহানগর গড়ে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৪১৭ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৭ টাকার প্রস্তাবিত প্রথম বাজেট ঘোষণা করেছে নব গঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশন। দেশের ১৩তম বগুড়া সিটি কর্পোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরুর পর এটি প্রথম বাজেট। রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তনে প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন । বাজেটে উল্লেখযোগ্য আয়ের খাত হলো কর আদায় ৭৯ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা, সরকারী অনুদান ৪ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা, অন্যান্য রাজস্ব আদায় ১০ কোটি ৫৯ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা, পানি সরবরাহ খাতে ৮০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, এডিপি থেকে ৬শ ১৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, প্রকল্প খাতে ৬শ ৮০ কোটি টাকা । অপরদিকে ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হলো সাধারন সংস্থাপন ৫২ কোটি ২৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, শিক্ষা খাতে ২কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ১২ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা, এডিপির ব্যয় ৬শ ৩০ কোটি টাকা, প্রকল্প ব্যয় ৬শ ৮০ কোটি টাকা। এবারের বাজেটে নাগরিকদের ওপর নতুন কোনো কর আরোপ না করেই ২৮টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীনের সভাপতিত্বে বাজেট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশীদ আলম, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী, সচিব মোছা. পপি খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল ও জয়নাল আবেদীন চাঁন, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট রিয়াজ উদ্দিন, এনসিপি জেলা সভাপতি এমএস মাহমুদ। অনুষ্ঠানে সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাজেট উপস্থাপনকালে প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন বলেন, দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করে বগুড়াকে দেশের অন্যতম আধুনিক মহানগরে রূপান্তর করাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো সিটি কর্পোরেশনের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন, আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ, সুবিল খাল ও করতোয়া নদী পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত পুনর্র্নিমাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বগুড়া ওয়াসা গঠন, বহুতল সপ্তপদী শপিং মল নির্মাণ, সাতমাথাসহ চারটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং নগরজুড়ে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের পরিকল্পনাও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যানজট নিরসনে লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশার নিবন্ধন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন, গাড়ি পার্কিং স্ট্যান্ড নির্মাণ এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট, পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার (এফএসটিপি) স্থাপন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও)-এর কার্যক্রম জোরদার, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর ৫০ হাজার গাছ রোপণ, এডওয়ার্ড পার্ক, শহীদ খোকন পার্ক ও নীলসাগর দিঘীর আধুনিকায়ন এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে শিশু পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও বাজেটে রাখা হয়েছে।নাগরিক সেবা ডিজিটাল করতে ডি-নথি চালু, সব সেবা অনলাইনে আনা, নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার, নারী ও প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি এবং আধুনিক কসাইখানা চালুর উদ্যোগের কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজেট ঘোষণার শেষে প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে বগুড়াকে একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও উন্নত মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করবে।