বিনোদন ডেস্ক
বলিউডে এমন অভিনেতা-অভিনেত্রী আছেন যারা সুপারহিরো-হিরোইন না হলেও টক্কর দিয়েছেন প্রথম সারির অনেককে। এত এত সিনেমায় অভিনয় করেছেন যে হিসাব রাখাই মুশকিল।
ললিতা পাওয়ার
ভারতীয় সিনেমার প্রথম নারী চরিত্র। ৭০ বছরের ক্যারিয়ারে তার অভিনীত ছবির সংখ্যা সাত শ’র বেশি। ললিতা শুধু ভারতীয় সিনেমাতেই নয়, মারাঠি, গুজরাটি সিনেমাও করেছেন। মাত্র নয় বছর বয়সে ভারতবর্ষের প্রথম ছবি ‘রাজা হরিশচন্দ্র‘ দিয়ে তার পর্দাযাত্রা শুরু। এরপর নেতাজি পালকার (১৯৩৮), আনারি (১৯৫৯), শ্রী ৪২০, দাহেজসহ প্রচুর হিট ছবি উপহার দিয়েছেন। রামায়নে মন্থরার ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য আজও স্মরণ করা হয় তাকে। এই অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন দুটোই ছিল চড়াই উৎরাইয়ে ভরা। ১৯৪২ সালে ‘জঙ্গ-ই আজাদি ‘ ছবির শুটিংয়ে দুর্ঘটনায় এক চোখ হারান তিনি। ওই ছবিতে সহ-অভিনেতা মাস্টার বাগওয়ান একটি দৃশ্যে ভুল করে তাকে সজোরে চড় মারেন। যার কারণে ললিতার বাঁ চোখের রক্তনালী ছিঁড়ে যায় ও ওই চোখ এক পর্যায়ে নষ্টই হয়ে যায়। তারপর থেকে প্রধান চরিত্র ছেড়ে দিতে হয় ললিতাকে। বেছে নিতে হয়েছিল পার্শ্ব চরিত্র। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত পর্দায় কাজ করেছেন তিনি। মারা যান ১৯৯৮ সালে।
শক্তি কাপুর
তাকে বলিউডের অন্যতম খলনায়ক কিংবা ফানিম্যান যা-ই বলুন, সিনেমার সংখ্যার বিচারে তিনিও কম যান না। আশির দশক হতে ছোট ছোট ভূমিকায় অভিনয় করে পথচলা শুরু তার। সাড়ে চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনিও প্রায় সাত শ’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
অনুপম খের
এই ভারতীয় অভিনেতা আজ অবধি ৫১৯টি ছবিতে কাজ করেছেন। মহেশ ভাট পরিচালিত সারানস (১৯৮৪) ছবির জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। তাছাড়া রাম লক্ষ্মণ (১৯৮৯), লামহে (১৯৯১), খেলা ( ১৯৯২), দার (১৯৯৩), এবং দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে (১৯৯৫)-এর জন্য মোট পাঁচবার সেরা কমেডিয়ানের পুরস্কারের রেকর্ডও তার ঝুলিতে। দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আটটি ফিল্মফেয়ার পেয়েছে এ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে। হলিউডেও নিজের নাম লিখিয়েছেন অনুপম। ২০০২ সালে বেন্ড ইট লাইক বেকহাম ও অস্কারজয়ী সিলভার লাইনিংস প্লেবুক এ-ও অভিনয় করেছে গুণী এ শিল্পী।
অরুণা ইরানি
হিন্দি, কান্নাড়া, মারাঠি, গুজরাটি মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই করেছেন পার্শ্বচরিত্রের রোল। ১৯৬১ সালের ‘গঙ্গা যমুনা’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু তার। টিভিতেও অনেক সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন। ২০১২ সালে পেয়েছেন লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। ২০১৯ সালে মুক্তি পায় তার বলিউডের সর্বশেষ ছবি ‘চাল জেভি লাইয়ে’।
জনি লিভার
বলিউড ছবির নিয়মিত দর্শকদের প্রিয় মুখ তিনি। অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি আর তার সংলাপ শুনে হাসেনি এমন মানুষ পাওয়া ভার। আশির দশকে বলিউডে প্রবেশ তার। এ পর্যন্ত তিন শ’রও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। উল্লেখযোগ্য ছবি হলো ফির হেরা ফেরি, গোলমাল সিরিজ, হাউজফুল, কুচ কুচ হোতা হ্যায়।
পরেশ রাওয়াল
এই অভিনেতা এখন পরিচিত তার কমেডির জন্য। তবে একসময় ছিলেন মারকুটে ভিলেন। হিন্দিতে তার করা ছবির সংখ্যা প্রায় তিন শ’র ওপর। ওয়েলকাম (২০০৭), হাঙ্গামা-২ (২০২১), হেরা ফেরি (২০০০), ফির হেরা ফেরি (২০০৬), চুপ চুপ কে (২০০৬), গোলমাল (২০০৬) এমন সব হিট ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। এখন নেমেছেন রাজনীতি ও চলচ্চিত্র প্রযোজনাতেও।
নাসিরুদ্দিন শাহ
গুণী অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহর ঝুলিতে আছে প্রায় আড়াইশ ছবি। জিতেছেন অসংখ্য পুরস্কার- তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র, তিনটি ফিল্মফেয়ার ও ভেনিস চলচ্চিত্র পুরস্কার। পেয়েছেন পদ্ম শ্রী ও পদ্মভূষণও। ‘মাসুম’, ‘আলবার্ট পিন্টু কো গুসসা কিঁউ আতা হ্যায়’, ‘সারফারোশ’, ‘আইয়ারি’, ‘স্যার’, ‘চাহাত’, ‘চমৎকার’, ‘আ ওয়েডনেসডে’ তার বিখ্যাত কয়েকটি ছবি।
অমিতাভ বচ্চন
যে ছবিতেই হাত দিয়েছেন, অভিনয়ে সোনা ফলিয়েছেন তিনি। তাই তার আরেক নাম হয়েছে বিগ বি। এ পর্যন্ত ২৪৩টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। বেশিরভাগ ছবিতেই ছিলেন মূল চরিত্র বা বড় কোনও ভূমিকায়। স্রেফ ছোটখাট কোনও পার্শ্বচরিত্রে তাকে দেখা যায়নি বললেই চলে। ১৯৬৯ সালে ‘সাত হিন্দুস্তানি’ ও ‘ভুবন সোম’ ছবি দুটি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু তার। এরপর একে একে ‘হাম’, ‘তুফান’, ‘শোলে’, ‘অগ্নিপথ’, ‘বাটওয়ারা’, ‘গুলামি’, ‘ইনসানিয়াত’, ‘নমক হালাল’সহ অগণিত হিট ছবি উপহার দিয়েছেন। সর্বশেষ মুক্তি পেয়েছে ‘চেহরে’। মুক্তির অপেক্ষায় আছে অন্তত সাতটি ও হাতে আছে আরও দুটি ছবির কাজ।
ধর্মেন্দ্র
বড় ও ছোট চরিত্র মিলিয়ে করেছেন ৩২০টির মতো ছবি। ১৯৬০-৭০ পর্যন্ত ছিলেন রোমান্টিক নায়ক। ৭১-৯১ পর্যন্ত ছিলেন ধুন্ধুমার অ্যাকশন হিরো। নামকরা ছবির তালিকায় আছে ‘শোলে’, ‘খাত্রো কি খিলাড়ি’, ‘বতন কি রাখওয়ালে’, ‘হুকুমত’, ‘দুশমন দেবতা’সহ আরও অনেক।
অন্যরা
এ ছাড়া পুরনো ও নতুন মিলিয়ে বাকিদের সংখ্যায় (আইএমডিবি সূত্রমতে) বুলানো যাক এবার—
জিতেন্দ্র-২২৯
রেখা-১৯১
অক্ষয় কুমার-১৫৮
শাহরুখ খান-১০৫
সালমান খান-১২৫
ডিম্পল কাবাডিয়া-৯৪
মাধুরী দীক্ষিত-৮৮
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-৭৯
আমির খান-৬২
ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চন-৫৩
দীপিকা পাডুকোন-৩৭