তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে বেড়িবাঁধ-বসতভিটা নদী গর্ভে বিলিন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১

মুক্তজমিন ডেস্ক

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত ১০ দিনে কমপক্ষে অর্ধশত মানুষের বসতভিটা নদী গর্ভে হারিয়ে গেছে। কোলকোন্দ ইউনিয়নের উপপূর্ব বিনবিনা মোড় হতে বেড়িবাঁধ যাওয়া রাস্তাসহ বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে আবাদী জমি নদীতে পরিণত হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে বিনবিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ একটি ঈদগাঁহ।

ভাঙনের শিকার বৃদ্ধ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ঈদের আগের দিন তার ভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। পার্শ্ববর্তী মইষামুড়ি এলাকায় খাস জমিতেও ঠাঁই মেলেনি। অন্যের বাড়ির বারান্দায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কোন রকমে আছেন তিনি।

পূর্ব বিনবিনা এলাকার খলিল মিয়া, আনিছার মুন্সিসহ অনেকে বলেন, ভাঙনের পাশাপাশি বিনবিনা ও মইষামুড়ি এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে আবাদী জমিগুলো তলিয়ে গেছে। যাতে চলতি বছর আবাদ করার সুযোগ নেই।

কোরবানি ঈদের কয়েকদিন আগে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে এলাকায় কয়েক দফা বন্যা দেখা দেয়। নদীর পানি কমে যাওয়ার সাথে শুরু হয় তিস্তার ভাঙ্গন। অব্যাহত ভাঙনে বিনবিনা পাকা রাস্তায় সংযুক্ত স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধটি অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে নদীতে। গত ১০ দিনে কমপক্ষে অর্ধশত পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে গিয়েছে।

কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু বলেন, এমনিতে করোনাকালে নিম্ন আয়ের মানুষগণ ভালো নেই। তার ওপর তিস্তার বন্যা-ভাঙনে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে বিনবিনা চরের বাসিন্দারা। ভাঙনের শিকার মানুষগণকে সহায়তাসহ দ্রুত ভাঙন রোধের দাবি জানান তিনি।

এদিকে পানিউন্নয়ন বোর্ডের বন্যাপূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানাগেছে, ভোর ৬ টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিলো ৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023