মুক্তজমিন ডিজিটাল রিপোর্ট:আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবেরাধ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাজধানীতে একই দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ঘেরাও কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই অবরোধ। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে এসেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে রাত ১০টার পর থেকেই অবস্থান করছেন এনসিপি মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েক শ নেতা-কর্মী।
মিছিল নিয়ে নাহিদ ইসলাম যমুনার সামনে আসার আগে রাত ১২টার দিকে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত যমুনার সামনে থেকে তাঁরা সরবেন না। এর আগে ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত ও দলটিকে নিষিদ্ধের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত লিখেছেন, ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না পাওয়া পর্যন্ত আজ রাত দশটা থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলবে। যার এজেন্ডায় গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সুস্পষ্ট বয়ান নাই, তার সাথে আমরা নাই।’
এর আগে একই দিন ফেসবুকে দেওয়া আরেকটি পোস্টে হাসনাত অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের সুযোগ করে দিতেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিচারের নামে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। এই ঘোষণা অনুযায়ী এনসিপিসহ বিভিন্ন প্ল্যাঠফর্ম থেকে শিক্ষার্থী ও জনতা যমুনা ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দেয়। এরই অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে।
এদিকে যমুনার সামনে দেওয়া বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা আমাদের গুলি করে থামাতে পারবেন না, আমাদের এই জীবন আমরা ওয়াক্ফ করে দিয়েছি এই বাংলাদেশকে। যখন আমরা জুলাইয়ে রাস্তায় নেমেছিলাম, তখন আমরা সকল শক্তি জুলাইয়ের পক্ষে আমাদের জীবনটাকে ওয়াক্ফ করে দিয়েছিলাম।’
এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘সহযোদ্ধাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, পলিসি (নীতি) নিয়ে বিভাজন থাকবে, কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রশ্নে পুরো বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ। যতক্ষণ পর্যন্ত না আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে এখানে (যমুনার সামনে) অবস্থান করব।’
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। ওই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হয় নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির। এতে অন্যতম শীর্ষ পদে আসেন তিনি। প্রসঙ্গত, বুধবার দিবাগত রাতে ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছেলে রিয়াদ আহমেদ ও শ্যালক ড. এ এম নওশাদ। এর পরই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি আবার সামনে আসে।