শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সুপারিশের পর স্কুল-কলেজে নিয়োগে সময়ক্ষেপণ করলে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
গতকাল সোমবার (৯ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জিয়াউল হক হিনরী স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনায় কঠোর হুঁশিয়ারির কথা জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদে নিয়োগের লক্ষ্যে এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের নিয়োগপত্র গ্রহণ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে নানা রকম হয়রানি, বাধা প্রদান ও ক্ষেত্রবিশেষে নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে, যা জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১-এর ১৮.১(ঘ) ধারার সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন।
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে এরূপ সুষ্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য বিধিবিধানের আলোকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায় থেকে অনলাইনে এমপিও সংশ্লিষ্ট আবেদন অগ্রগতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য বিধিবিধানের আলোকে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশক্রমে অবহিত করা হলো।
অফিস আদেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষকের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়।
গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার জন্য ২৭ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুরুষ ১৮ হাজার ১৯২ ও নারী ৮ হাজার ৮৮২ জন। এছাড়া নারী কোটায় ৬ হাজার ১৭৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। এনটিআরসিএর সুপারিশ পেয়ে মনোনীত এসব শিক্ষকদের আগামী ১৯ অক্টোবরের মধ্যে যোগদান করতে বলা হয়েছে।
তবে সুপারিশ পাওয়া অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, তাদের নিয়োগ দেয়া নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটি গড়িমসি করছে। কোথাও নিয়োগ দেয়া হলেও এমপিও আবেদন পাঠাতে অর্থ দাবি করা হচ্ছে। যা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হয়রানিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানাল মাউশি।