গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের বাতিল হওয়া উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। তবে প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। ফলে দীর্ঘ লাইন ছাড়াই ভোট দেয়া যাচ্ছে। কিছু কেন্দ্র ফাঁকাও দেখা গেছে।
তবে কেন্দ্রে আসা ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীকে মনোনীত করবেন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, ভোটাররা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়ে তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন। তিনি আশাবাদী জনগণ তাকে ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সহযোগিতা করবেন।
সকালে তার নিজ কেন্দ্র সাঘাটা উপজেলার ফলিয়া দিগর দাখিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অপরদিকে সাঘাটা উপজেলার আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকের এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু বলেন, ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকলে জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
তবে ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ইভিএমে ভোট প্রদানে এখন পর্যন্ত কোন সমস্যার কথা জানা যায়নি। তবে ভোটারের উপস্থিতি কম থাকায় অধিকাংশ বুথে প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের অলস সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে। অনেকে বলছেন বেলা বাড়ার সাথে সাথে আবহাওয়া একটু স্বাভাবিক হলে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে।
নির্বাচনে মাহমুদ হাসান রিপন (আওয়ামী লীগ), এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু (জাতীয় পার্টি), অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম (বিকল্প ধারা), নাহিদুজ্জামান নিশাদ (স্বতন্ত্র) ও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান (স্বতন্ত্র) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সাঘাটা ও ফুলছড়ি দু’টি উপজেলা নিয়ে এ সংসদীয় আসন গঠিত। এতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ফুলছড়ির সাতটি ইউনিয়নে ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৬ জন এবং সাঘাটার ১০টি ইউনিয়নে ২ লাখ ২৫ হাজার ৭০ জন।
গত ১২ অক্টোবর এ আসনের উপ-নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের কারণে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয় ইসি। পরে ৪ জানুয়ারি ভোটের নতুন তারিখ দেয় সংস্থাটি। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার মৃত্যুতে গাইবান্ধা-৫ আসনটি শূন্য হয়।