বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা সম্রাটের জামিন বাতিলের আদেশ বহাল

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০২২

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন আবেদন খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ। খারিজের কারণে তার জামিন বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল থাকলো। এর ফলে অস্ত্র, মাদক ও অর্থপাচারসহ ৩টি মামলায় জামিন থাকলেও মুক্তি পাচ্ছেন না সম্রাট।

বুধবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। এদিন আদালতে সম্রাটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।

এর আগে গত ২৩ মে সম্রাটের জামিন বাতিল করে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত।

এদিকে মাদক মামলার শুনানিতে সম্রাটকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর হাজির করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১৫ এর বিচারক তেহসিন ইফতেখার এ আদেশ দেন। ওই দিন বিচারক মাদক মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারণ করবেন।

আবেদনপত্রে সম্রাটের আইনজীবী উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল সম্রাট জামিন পেয়েছেন। কিন্তু আরেকটি মামলায় কারাবন্দি থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।

গত ১১ মে সম্রাট সব মামলায় জামিন পান। পরবর্তীতে ২৪ মে দুর্নীতির মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ঢাকার ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানে অবৈধভাবে ক্যাসিনো কারবারের বিষয়টি সামনে আসে। ওই ক্লাব পরিচালনা করতেন যুবলীগের সে সময়ের ঢাকা দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। তিনি ছিলেন ইসমাইল হোসেন সম্রাটের ঘনিষ্ঠজন। পরে বেরিয়ে আসে, ঢাকায় ক্যাসিনো কারবারে হাত রয়েছে যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের।

এরপর ১৭ অক্টোবর কুমিল্লা থেকে ইসমাইল হোসেন সম্রাট ও তার সহযোগী আরেক যুবলীগ নেতা এনামুল হক ওরফে আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

তখন র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের সময় ইসমাইল হোসেন ও আরমান মদ্যপ ছিলেন। তাদের কাছে বিদেশি মদ ছিল। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন।

দুজনকে ঢাকায় আনার পর ইসমাইল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালায় র‍্যাব। সেখানে বন্যপ্রাণির চামড়া, মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র পাওয়ার কথা জানানো হয়। বন্যপ্রাণির চামড়া রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ইসমাইল হোসেনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

পরে ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে রমনা থানায় মামলা করা হয়।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং (অর্থ পাচার) আইনে মামলা করে। আর ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023