বাবা হলেন সেই বটবৃক্ষ, যার ছায়াতলে সন্তান সবচেয়ে নিরাপদ থাকে। বাবা শব্দটি দায়িত্ব ও ভালোবাসায় ঘেরা। বাবা হলেন শ্রদ্ধা, ভয়, উৎসাহ, নির্দেশনা ও নির্ভরতার জায়গা। আজ ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। এ উপলক্ষে বাবাকে নিয়ে শোবিজ তারকাদের মনের অব্যক্ত কথা জানাচ্ছেন- জাহিদ ভূঁইয়া
আঁখি আলমগীর
শৈশবে পড়াশোনার ব্যাপারে আব্বু খুব কঠোর ছিলেন। তবে গানের ব্যাপারে বরাবরই উৎসাহ দিতেন। বলতেন, ‘গান শেখো নিজের জন্য।’ পেশাদার অভিনয়শিল্পী বা গায়িকা বানানোর আলাদা কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না। আব্বুর খুব ইচ্ছে ছিল- আমি যেন আইনজীবী হই। তিনি সবসময় বলতেন, ‘ভালো মানুষ হলে দেখবে, সবই শিখতে পারবে।’ আব্বুর কাছ থেকে যা কিছু শিখেছি, তাকে দেখেই শিখেছি। আশপাশের কে তার চেয়ে বেশি কাজ করছে, সেটা নিয়ে আব্বু মোটেও ভাবতেন না। নিজের কাজ করে যেতেন। এটা আমি পেয়েছি তার কাছ থেকে। আরও শিখেছি, পছন্দ না হলে পেশাদারি বজায় রেখে কীভাবে কোনো কাজের প্রস্তাব এড়িয়ে যেতে হয়। বাবা সব সময় বলেন, ‘জীবনের সবকিছু নিজেকেই অর্জন করতে হবে। যেটুকু নিজে কষ্ট করে করবে, শুধু সেটাই তোমার।’ আজ বাবা দিবসে আব্বুকে শুধু এটুকুই বলতে চাই, ‘তোমাকে ভালোবাসি।’
মাশরুর পারভেজ
দেশি চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা সোহেল রানা (মাসুদ পারভেজ) আমার বাবা- এটা আমার জন্য বেশ গর্বের। কিন্তু এ জন্য আর দশটা সাধারণ ছেলে থেকে আমার দায়িত্বও অনেক বেশি। বাবা জীবনে যে সংগ্রাম করেছেন, কষ্ট করেছেন, পরিশ্রম করেছেন, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি আমাদের পুরো পরিবারকে যতœ আর ভালোবাসার সঙ্গে একই সুতায় বেঁধে রেখেছেন- তা আমার কাছে বড় একটা শিক্ষণীয় বিষয়। আমার বাবার মতো কেয়ারিং বাবা খুব একটা দেখিনি। শত ব্যস্ততার মাঝেও বাবা আমাদের প্রচুর সময় দিয়েছেন। কাজের অজুহাতে, ব্যস্ততা দেখিয়ে পরিবারকে বঞ্চিত করেননি। আমাদের পড়ালেখার গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও নাটকে আমাদের আগ্রহ দেখে বাবা উৎসাহ দিয়েছেন। বলা যায়, হাতে-কলমে শিখিয়েছেন তিনি। বাবা সবসময় আমার জীবনের আইডল; তাকে যত দেখি ততই যেন মুগ্ধ হই। আমার ইচ্ছের দাম দিয়েছেন বাবা সবসময়। যেখানে কঠোর হওয়া দরকার, সেখানে কঠোর হয়েছেন; শাসন আর আদর করেছেন সমানভাবে।
বিদ্যা সিনহা মিম
বাবা আমার জীবনের সাহস। তিনি সব সময় অনুপ্রাণিত করেন আমাকে। তিনিই আমার সেরা বন্ধু, আমার সত্যিকারের হিরো। বাবা আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে সাহস ও বুদ্ধি খাটিয়ে জীবনে পথ চলতে হয়। ২০১৪ সালের একটা ঘটনা- বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে হল অব ফেমে মঞ্চের পেছনে দাঁড়িয়ে আমি। দুধ-সাদা রঙা গাউনে হাসিখুশি দেখে দুই-একজন বলেও গেল, আমাকে দেখতে সেই রকম লাগছে; কিন্তু হঠাৎ করেই আমার মুখটা মলিন হয়ে যায়। কারণ মঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ আগে জানতে পারি, আমার বাবা অসুস্থ। কথা পর্যন্ত বলতে পারছেন না। উঠতে পারছেন না বিছানা থেকেও। খবরটা শুনেও নড়ার উপায় ছিল না আমার। তাই বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে একাই গেলেন মা। এদিকে চুপ করে কিছুক্ষণ বসে থাকলাম আমি। এর পর ডাক পড়ল মঞ্চে ওঠার। হাসিমুখ নিয়েই হেঁটে এলাম। আমন্ত্রিত অতিথিরা কেউই বুঝতে পারেননি- এই হাসির আড়ালে কতটা দুঃখ লুকিয়ে ছিল।
মারিয়া নূর
ছোটবেলায় আব্বুর সঙ্গে আমি আর আমার ছোট বোন প্রতিদিন সকালে সংসদ ভবন যেতাম। কারণ প্রতিদিন আমাদের হাঁটার নিয়ম ছিল। মেয়ে কাঁধে নিয়ে ঘোরার গল্প আমরা নাটক-সিনেমায় যে রকম দেখেছি, আব্বু ঠিক সে রকম করেই কাঁধে নিয়ে ঘুরত আমাকে। চিপস আর আইসক্রিম খাওয়ার যত আবদার, সব মেটাত আব্বু। আর যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করলাম, আব্বুর কাছে প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিয়ম করে পড়তে বসতাম। আব্বু গণিতে খুব ভালো। আর হাতের লেখাও অসম্ভব সুন্দর। পড়তে বসা মানেই ছিল অঙ্ক করা আর হাতের লেখা কেন সুন্দর হচ্ছে না, তা নিয়ে কথা শোনা। দুষ্টু ছিলাম, তাই চেষ্টা করতাম কীভাবে সন্ধ্যার পড়াটা ফাঁকি দিয়ে টিভির সামনে বসা যায়। আর এখন বড় হওয়ার পর মনে হয়, সে রকম সময় যদি আবার কাটানো যেত! অনেক মিস করি আব্বুর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো। বাবা, ‘তুমি আমার কতটাজুড়ে আছ, তা শব্দ নিয়ে বোঝানো যাবে না।’
মেহজাবিন চৌধুরী
আমার কাছে প্রতিটা দিনই বাবা দিবস। বর্তমানে বিশে^র যে পরিস্থিতি, সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি- তিনি যেন পৃথিবীর সব বাবা-মাকে ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন। প্রত্যেক সন্তানের চোখেই বাবারা সুপার হিরো, আমার চোখেও ঠিক তাই। কারণ এমন কিছু নেই, যা বাবা আমাদের জন্য করেননি। সবচেয়ে বড় কথা- আমার বাবা তার সন্তানদের ওপর আস্থা রেখেছেন। বাবা সব সময়ই একটা কথা বলতেন- আমরা যে কাজই করি না কেন, সেটাতে যেন শীর্ষে যেতে পারি। পড়াশোনার ব্যাপারে তিনি স্বাধীনতা দিয়েছেন, তবে ভালো ফলটা চেয়েছেন। আমাদের দৃঢ়চেতা হওয়ার শিক্ষা বাবাই দিয়েছেন। বিশেষ এই দিনে বাবাকে একটা কথা বলতে চাই- ‘তোমার জন্যই প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি, আমাদের মাথার ওপর আস্থার টেকসই ছাদ আছে। মরণ এলেও জানি আমাদের শক্ত করে ধরে রাখবে তুমি। বাবা তোমাকে ভালোবাসি।’