সিসিইউ থেকে কেবিনে খালেদা

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৫ জুন, ২০২২

টানা চারদিনেরও বেশি সময় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুন) দুপুর ১টা ৫ মিনিটে তাকে সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয় বলে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ ডেজ এম জাহিদ হোসেন বলেন, ম্যাডামকে কিছুক্ষণ আগেই কেবিনে নেওয়া হয়ছে। আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত শুক্রবার (১০ জুন) দিনগত রাত ৩টা ২০ মিনিটে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাকে গুলশানের নিজ বাসভবন ফিরোজা থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পর শনিবার দুপুরে জরুরিভিত্তিতে তার এনজিওগ্রাম করা হয়। এতে তার হার্টে বেশ কয়েকটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক ছিল ৯৫ শতাংশ। সেটিতে রিং পরানো হয়।

‘বিদেশে যাওয়া যাবে না এবং বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হবে’- এ দুই শর্তে অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তিতে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর’-এর ধারা-৪০১ (১)-এর ক্ষমতাবলে সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রথমবারের মতো শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তি পান খালেদা জিয়া। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। এরপর দফায় দফায় বাড়ে তার মুক্তির মেয়াদ। সবশেষ গত মার্চ মাসে শর্ত অপরিবর্তিত রেখে আরও এক দফা তার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে সায় দেয় সরকার।

৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে গুলশানে তার বাসা ‘ফিরোজায়’ রয়েছেন। তিনি আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে টানা ৮১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১ ফেব্রুয়ারি গুলশানে নিজের বাসভবন ফিরোজায় ফিরেন খালেদা জিয়া।

এর আগে গত বছরের এপ্রিলে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হলে সে দফায় একই হাসপাতালে ৫৪ দিন চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর আবারও এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়।

ওই বছরের ৩০ অক্টোবর বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার সাত বছরের সাজা হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023