শিরোনাম :
রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি : জামায়াত আমির কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট দেওয়ার আশ্বাস তারেক রহমানের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত বগুড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে ভোক্তা অধিকারের অভিযান দশ হাজার জরিমানা বগুড়ায় আমীরে জামায়াতের জনসভা সফল করতে ১০ দলীয় জোটের সভা শিবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থী ৭ জন শিবগঞ্জে অবৈধ মাটি মহলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা শাজাহানপুরে মোটরসাইকেল-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক

খোলা সয়াবিন তেলের বাজারে আগুন
বোতল ভেঙে ‘খোলা’ বলে বিক্রি
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এমনিতেই সাধারণ ভোক্তাদের নাগালের বাইরে। এর মধ্যে খোলা সয়াবিন তেল এবং পাম তেলের দামও নাগালের বাইরে চলে গেছে। রাজধানীর খোলা তেলের বাজারে হঠাৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে দাম এক লাফে কেজিপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে এখন প্রতিকেজি খোলা সুপার সয়াবিন তেল ১৭২ থেকে ১৭৫ টাকা পর্যন্ত এবং পাম তেল ১৬৪ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি।

কারওয়ান বাজারের যমুনা স্টোরের খুচরা বিক্রেতা মো. ওয়াসিম মিয়া বলেন, পাইকারিতে লুজ (খোলা) তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সুপার ও পাম দুটির দামই বেড়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অনেক বিক্রেতা লুজ তেল বিক্রি করা বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেকে আবার বোতল কেটে খোলা তেল হিসেবে বিক্রি করছেন। কারণ বোতলের লিটারের দাম পড়ছে ১৬০ টাকা, সেখানে খোলা তেলের পাইকারি দামই এখন ১৬২ টাকা কেজি; খুচরা যা বিক্রি হচ্ছে ১৭২-১৭৪ টাকা পর্যন্ত। বেশি দাম পাওয়ার আশায় অনেক ব্যবসায়ী বোতল ভেঙে ‘লুজ’ বলে তেল বিক্রি করছে।

আরেক খুচরা বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, গত সপ্তাহেও পাম তেলের কেজি বিক্রি করেছি ১৫৪ টাকা। এখন তা ১৬৪ টাকা হয়েছে। অপরদিকে খোলা সুপার বিক্রি করছি ১৭২ টাকা। গত সপ্তাহে যা বিক্রি করেছি ১৬০ থেকে ১৬২ টাকা। এ হিসাবে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারিতে খোলা তেল কম মিলছে। যা পাওয়া যাচ্ছে তা অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
কদমতলী সাদ্দাম মার্কেট বাজারের সোলেমান স্টোরের খুচরা বিক্রেতা মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, পাম তেলের ড্রাম (১৮৫ কেজি) এখন ৩০ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অথচ কিছু দিন আগেও ২৭ হাজার ৩০০ টাকায় কেনা গেছে। পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন আমদানি কমে গেছে। আমদানি খরচও বেড়েছে। তাই দাম এমন হারে বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের পাইকার ব্যবসায়ী মো. হানিফ জানান, বাজারে বোতল তেলের কোনো সরবরাহ সংকট নেই। তবে দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় খোলা তেলের আমদানি কমেছে। অনেকে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের প্রভাবের গুজব ছাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু এটা অযৌক্তিক। কারণ এ কারণে সহসাই দেশের ভোজ্য তেলের বাজারে প্রভাব পড়বে না। তবে আমদানি খরচ বাড়ায় দাম এমনটা বেড়েছে। খোলা তেলের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তারা হাত বদলের সরবরাহ ব্যবস্থাকে দায়ী করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বহির্বিশ্বে তেলের দাম বাড়ায় ৭ ফেব্রুয়ারি দেশের বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৭ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়াও পাঁচ লিটারে ৩৫ টাকা ও পাম তেলে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ দাম নির্ধারণ করা হয়।

নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ৮ টাকা বেড়ে ১৬৮ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৭ টাকা বেড়ে ১৪৩ টাকা, বোতলজাত সয়াবিনের পাঁচ লিটার তেলের দাম ৩৫ টাকা বেড়ে ৭৯৫ ও পাম তেলের দাম ১৫ টাকা বেড়ে ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023