অসময়ে মসুলধারে বৃষ্টির কারনে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার অনেক আলুর খেতে পানি জমেছে। এসব খেতের আলু পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এই অবস্থায় যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে আরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আলু চাষিরা। এতে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমে এই উপজেলাতে আলুর চাষাবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে। এবার আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ দুই হাজার মেট্টিকটন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আলুর জমি থেকে দ্রæত পানি বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ আলুর জমিতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। আটকে থাকা পানি সরাতে জমির আল কেটে, বালতি বা বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে জমির পানি সেচের কাজ করছেন কৃষকরা। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আলু জমির যেদিকেই চোখ যায় একই অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার সকালে উপজেলার, রিধইল, কাথম, বেরাগাড়ী, কুন্দারহাট, কালিশ, পুনাইল, হাটকড়ইসহ বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। ব্যস্ত দেখা গেছে কৃষকদের। জমে থাকা পানি অপসারণ করা না গেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আলু চাষিরা।
কৃষকরা জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নন্দীগ্রাম উপজেলায় মুসলধারে বৃষ্টি হয়েছে। যা এখন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আলু তোলার জন্য এখন কৃষকরা প্রস্তুতি গ্রহন করছেন ঠিক এ মূহুর্তে হঠাৎ করে বৃষ্টিতে আলুর জমিতে পানি জমে যাওয়ায় মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন আলু চাষীরা। অসময়ে হঠাৎ বৃষ্টিপাতের কারনে কৃষকের আলু রক্ষায় ব্যাপক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার ভাটগ্রামের আলু চাষি কৃষক আক্কাস আলী, এ বছর তিনি ৩০ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেন। হঠাৎ বৃষ্টিতে আলুর জমিতে পানি জমেছে। এখন জমে থাকা পানিগুলো লোকজন দিয়ে সরানোর ব্যবস্থা করছেন। পুনরায় বৃষ্টি হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
আলু চাষি শাহাদত হোসেন, আব্দুল বাছেদ বলেন, এই উপজেলায় অনেক আলু উৎপাদন হয়। কিন্তু তা সংরক্ষণ করার কোন ব্যবস্থা নেই। এছাড়া আলু জমিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিগুলো সেচ দেওয়া হচ্ছে।
এবিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আদনান বাবু বলেন, কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা আলুর জমি থেকে দ্রæত পানি বের করে দেওয়ার জন্য আলুচাষীদের পরামর্শ প্রদান করছেন। জমে থাকা পানি দ্রæত অপসারণ করলে আলুর ক্ষতি হবে না। তবে জমিতে পানি জমে থাকলে আলুর ক্ষতি হবে। এছাড়া যাদের জমির বয়স হয়েছে তাদের আলু তোলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।