দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম থেকে ইতালি সরাসরি জাহাজ সেবা চালু হচ্ছে। আগে চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর বা শ্রীলঙ্কার বন্দর ঘুরে ইতালিতে যেতে স্বাভাবিকভাবে সময় লাগে ২৪ থেকে ২৮ দিন। এখন সিঙ্গাপুর বা শ্রীলঙ্কায় বড় জাহাজে বুকিং পেতে দেরি হওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই সময় লাগছে ৩০ থেকে ৩৫ দিনের বেশি। তবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে পণ্য রপ্তানির এই সময় কমিয়ে দিচ্ছে চট্টগ্রাম-ইতালি সরাসরি জাহাজ সেবা। ইতালি থেকে ছেড়ে আসা ‘এমভি সোঙ্গা চিতা’ নামের আরেকটি জাহাজ ১৬ দিন পর আজ শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে ইতালি থেকে চট্টগ্রামে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হয়। প্রথম যাত্রায় ইতালি থেকে শুধু খালি কনটেইনার আনা হয়েছিল। পরীক্ষামূলক চলাচল সফল হওয়ায় এবার শুরু হচ্ছে রপ্তানি পণ্য পরিবহন।
চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ইউরোপ যাবে জাহাজ- এমন প্রত্যাশা বহুদিনের। সেই আশা এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে, তাতে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
গেল বছরের ডিসেম্বরে আরেকটি জাহাজের পরীক্ষামূলক যাত্রা সফল হওয়ায় এবার নিয়মিত যাত্রা শুরু হচ্ছে। এখন থেকে দুটি জাহাজ নিয়মিত চলবে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ইউরোপের পথে।
শুরুতে কিছুটা ছোট পরিসরে ও ছোট জাহাজে করে কন্টেইনার পরিবহন হলেও এ উদ্যোগ আশা জাগাচ্ছে রপ্তানিকারকদের।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইতালির রেভেনা বন্দরের উদ্দেশ্যে ৯৮৩ রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার নিয়ে যাত্রা করবে ‘এমভি সোঙ্গা চিতা’। সেজন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে দেশের এ প্রধান সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান জানান, এমভি সোঙ্গা চিতা জাহাজটিকে সরাসরি বার্থিংয়ের সুবিধা দেয়া হবে, যাতে অপেক্ষায় থাকতে না হয়। এছাড়া গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ সব কারিগরি ও প্রশাসনিক কাজেও অগ্রাধিকার দেয়া হবে, যাতে দ্রুত সেটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারে।
ইতালিসহ ইউরোপের কয়েকজন ক্রেতার আগ্রহেই ইতালির ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান আরআইএফ লাইন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্যালিপসো কোম্পানিয়া ডি নেভিগেশন চট্টগ্রাম-ইতালি সরসারি জাহাজ চলাচলের এই সেবা চালু করছে।
এ সেবার স্থানীয় প্রতিনিধি রিলায়েন্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ৯৪৫ টিইইউএস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনারের সমতুল্য একক) খালি কন্টেইনার এবং ক্যাপিটাল মেশিনারি ভর্তি সাত টিইইউএস কন্টেইনার নিয়ে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে শনিবার।
ফেরার সময় ৯৮৩ টিইইউএস কন্টেইনার নিয়ে যাবে, যেগুলোর ৯৮ শতাংশই তৈরি পোশাক। ইতালির ক্রেতাদের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশের ক্রেতাদের অর্ডার করা তৈরি পোশাক থাকবে তাতে।
নতুন এ সমুদ্রযাত্রাকে শুধু ইতালির বন্দরে একটি রপ্তানি পণ্যবাহী জাহাজের যাত্রা হিসেবে দেখতে রাজি নন রপ্তানিকারক, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিদেশি ক্রেতাদের প্রতিনিধি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা।
তারা বলছেন, এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ‘নতুন দিগন্ত’ উন্মোচিত হবে। সরাসারি যাত্রায় খরচ ও সময় কমলে ইউরোপের দেশগুলোর পাশাপাশি আমেরিকান ক্রেতারাও আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন এ ব্যবস্থায়।
সেক্ষেত্রে পোশাক রপ্তানি খাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে পারবে বাংলাদেশ। বিদেশি ক্রেতাদেরও এ দেশ থেকে পণ্য কেনার আগ্রহ বাড়বে, যা এগিয়ে দেবে অর্থনীতিকে।