হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে জয়পুরহাটে আলু-সরিষাসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি ও মাঝারি বাতাসের কারণে কাঁচা ও পাকা সরিষার গাছগুলোও হেলে পড়েছে। এছাড়া আলুর ক্ষেতে পানি জমে থাকায় আলুর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করেছেন কৃষকরা। এদিকে নিচু জমির অন্যান্য ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে জেলাজুড়ে বিভিন্ন আলুর ক্ষেতে পানি জমেছে। এরপরেও আশা ছাড়েননি কৃষকরা। ফসল বাঁচিয়ে রাখতে ক্ষেত থেকে পানি অপসারণ করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলায় এবার ৪০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও রোগবালাই কম হওয়ায় আলুর ফলনও হয়েছিল বেশ ভালো। ইতিমধ্যে জেলার মাঠে মাঠে আলু তোলা শুরু হয়েছে। তবে এই বৃষ্টিই কৃষকদের জন্য হয়ে আসলো অভিশাপ। টানা ভারী বৃষ্টিতে পানি জমে রয়েছে মাঠে। এভাবে দুই-তিনদিন বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকলে সব আলু নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়া কাঁচা ও পাকা সরিষা গাছগুলো হেলে পড়ায় ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। সেইসঙ্গে কৃষকেরা সঠিক সময়ে তাদের কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে পারবে কিনা তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন।
কালাই উপজেলার মাত্রাই গ্রামের আলু চাষী এনামুল বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে এ বছর ৫ একর জমিতে আলু রোপণ করেছি। এতে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আলু তুলতে চাইছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে বৃষ্টিতে ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এখন ক্ষেতেই পানির নিচে আলু রয়ে গেছে। জানি না আলুর কি অবস্থা হবে।
কালাই পৌরসভার মহল্লা এলাকার আলু চাষী সোবহান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সঠিক সময়ে কষ্ট ও ধারদেনা করে এবার আলু রোপণ করেছিলাম। আলু চারাগুলো ভালো পরিচর্যা করায় জমিতে ফলন ভালো হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি ও মাঝারি হওয়া-বাতাসে সব জমির আলুর গাছগুলো ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনো ঠিক করে বলতে পারছি না কি পরিমাণ ক্ষতি হবে।
হাতিয়র গ্রামের সরিষা চাষী স্বাধীন বলেন, এ বছর এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। এতে প্রায় ৭ হাজার টাকার উপরে খরচ হয়েছে। বৃষ্টি ও বাতাস হওয়ায় জমির সব সরিষা গাছ হেলে পড়েছে।
উদয়পুর গ্রামের ধান চাষী মনোয়ার হোসেন বলেন, আলু তোলার পর জমিতে ধানের গাছ রোপণ করবো, তাই ধানের বীজ ছিটিয়ে ছিলাম। সেখানে ধানের চারাগুলো ভালোভাবে গজিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ধানের চারাগুলো পানির নিচে ডুবে আছে। এভাবে ডুবিয়ে থাকলে আমার সব চারা নষ্ট হয়ে যাবে। এখন কী করবো তা ভেবে পাচ্ছি না।
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে জেলার ৩০ ভাগ আলু তোলা শেষ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে আলুর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, আর বাতাসের কারণে কিছু কাচা ও পাকা সরিষা গাছগুলো হেলে পড়েছে। এতে কিছু ক্ষতি হলেও জমি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে ফসলের আর কোনো ক্ষতি হবে না।