চতুর্থ দিনের তৃতীয় সেশন যেন বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্ন বয়ে আনতে যাচ্ছিল। একের পর এক সুযোগ মিস। ক্যাচ মিস কিংবা রান আউটের সুযোগ নষ্ট। তার উপর রিভিউগুলোও নষ্টের মিছিল, কেমন যেন হতাশা ভারী হয়ে উঠছিল। মাথা ছাড়া দিয়ে উঠছিল কিউইদের জমাট প্রতিরোধ। ঠিক সেই সময় বল হাতে টানা তিন উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন এবাদত হোসেন। এই প্রতিবেদন লেখার সময় নিউজিল্যান্ড ১৩৬/৫ (৫৫.৩ ওভার)
আজ মঙ্গলবার মাউন্ট ম্যাঙ্গুইন টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে ৪৫৮ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে কিউইদের করা ৩২৮ রানের বিপরীতে ১৩০ রানের লিড নেয় মুমিনুলরা। এশিয়ার বাইরে কিংবা নিউজিল্যান্ডের মাটিতে যা এবারই প্রথম।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের দেওয়া লিড মোকাবিলায় শুরুটা ভালো হলো না স্বাগতিকদের। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও ব্যর্থ অধিনায়ক টম লাথাম। দলীয় ২৯ রানের মাথায় এই ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ৩০ বলে দুই বাউন্ডারিতে ১৪ রান করেন তিনি।
তিনে এসে শুরু থেকে বাংলাদেশের বোলারদের তোপের মুখে পড়েন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান ডেভন কনওয়ে। এই ব্যাটারকে বেশ ভুগিয়েছেন টাইগার বোলাররা। অন্য প্রান্তে থাকা ওপেনার উইল ইয়ংকেও একই কায়দায় চেপে ধরেন তাসকিনরা। সাফল্য আসতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি। দলীয় ৬৩ রানের মাথায়ই কনওয়েকে ফেরান এবাদত। ৪০ বলে ১৩ রান করা এই ব্যাটার ক্যাচ তুলে দেন সাদমান ইসলামের হাতে। তাতেই বাজে বিদায় ঘণ্টা।
দিনের শেষ সেশনে দারুণ দৃঢ়তা দেখায় রস টেইলর ও উইল ইয়ং। বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করেও এই জুটি ভাঙতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশ। খানিকটা হতাশ হওয়া বাংলাদেশ নষ্ট করে বেশ কয়েকটি রিভিউও। এরই মাঝে দলীয় ৯৩, ব্যক্তিগত ১৬ রানের মাথায় টেইলরকে ফেরাতে পারতো বাংলাদেশ। সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়ে টেইলরকে জীবন দেন সাদমান ইসলাম।
৫২তম ওভারে এসে বাংলাদেশের দেওয়া ১৩০ রানের লিড পেরিয়া যায় তারা। তবে এই যুগলের ৭৩ রানের জুটি আর বড় হতে দেননি এবাদত হোসেন। ৬ রান লিড হওয়ার পরই ইয়ংকে (৬৯) ফিরিয়েন ভাঙেন জুটি। একই ওভারের পঞ্চম বলে নতুন ব্যাটার হেনরি নিকোলসেও ফেরান এই পেসার। নিজের পরের ওভারে এসে আরেক ব্যাটার টম ব্লানডেলকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি।
এর আগে দিনের শুরুর সেশনে চার উইকেট নিয়ে বেশি সময় দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। আগের দিনের ৪০১ রানের সঙ্গে ৫৭ রান যোগ করে সবকয়টি উইকেট হারায় সফরকারীরা। যদিও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডের পর সবচেয়ে বেশি সময় ব্যাট করার সাহসিকতা প্রদর্শন করেছেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা।