শিরোনাম :
যেকোনো মূল্যে নেতানিয়াহুকে হত্যা করতে চায় ইরান সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই:সালাহউদ্দিন আহমদ জ্বালানি তেল বিতরণে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

প্রাণ বাঁচাতে ৭২ তলা থেকেও লাফ দিয়েছিলেন অনেকে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ডেস্ক রিপোর্ট
২০ বছর আগের এই দিনের শুরুটা ছিল আর দশটা দিনের মতো সাধারণ। প্রতিদিনের মতো ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ৭২ তলার অফিসে ঢুকছিলেন মার্কিন এক সংস্থায় কর্মী লরেন। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পান তিনি। এরপর দেখেন তার শরীরে আগুন জ্বলছে। ওই অবস্থায় দৌঁড়ে রাস্তায় চলে যান তিনি। জ্ঞান হারানোর আগে বুঝতে পারেন তারা শরীরে পানি ঢালা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে আসে তার। জ্ঞান ফেরার পর শরীরে প্রচণ্ড যন্ত্রণা অনুভব করেন। বুঝতে পারেন তার সমস্ত শরীর পুড়ে গেছে।

লরেন জানান, সেদিনের ওই হামলায় তার অফিসের প্রায় ৬০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেদিনের পরিস্থিতি এতো ভয়াবহ ছিল যে প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ৭২ তলা থেকেও ঝাঁপ দিয়েছিলেন।

ওই ঘটনায় লরেনের শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। বাঁচার আশা ছিল না তার। অনেকটা অলৌকিকভাবেই প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

লরেন জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে দেখে তার বাচ্চা ছেলে রীতিমতো শিউরে উঠেছিল।২০ বছর পরও সেদিনের ক্ষত শরীরে ও মনে বয়ে বেড়াচ্ছেন লরেন। তবে এতো কিছুর পরও স্বামী-সন্তান নিয়ে দিন কেটে যাচ্ছে এই মার্কিন নারীর।

৯/১১ এর দিন টুইন টাওয়ারের ৬৮ তলায় একটি সাক্ষাৎকার ছিল নিউ ইয়র্ক ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি কমিশনার লিন টাইনির। মাঝপথেই হামলার খবর আসে। সেদিনের স্মৃতিচারণ করে লিন বলেন, সেদিনের পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। আগুনের তীব্রতায় ভেতরে যেতে পারছিলাম না। এরই মধ্যে উপর থেকে মানুষের লাশ নিচে পড়ছিল। আমি একজন দম্পতিকে দেখেছিলাম, যারা হাতে হাত রেখে ওই দিন উপর থেকে লাফিয়ে ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দেশটিতে একসঙ্গে চারটি সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস করে। একই দিন ভার্জিনিয়ার আরলিংটনে তৃতীয় বিমান হামলা করে।

এসব হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন। ছয় হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়। ১০ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ধ্বংস হয়। কিন্তু ২০ বছর পরও নাইন-ইলেভেনের (৯/১১) ক্ষত সারেনি।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পেছনে ওসামা বিন লাদেন ও তার সন্ত্রাসী দল আল কায়দা জড়িত ছিল। ৯/১১ নামে খ্যাত ওই হামলার বিপরীতে সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সন্দেহের আওতায় থাকা জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ চালাতে গিয়ে ২০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে।
এসব যুদ্ধে বিভিন্ন দেশে ৯ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির কস্টস অব ওয়ার প্রজেক্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023