যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে রকিবুল গাজী (৩৮) নামে এক জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার সাভারের ধামসোনা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির দাবি, নড়াইল জেলার কালিয়া থানাধীন বাবরা হাচলা ইউনিয়নের উড়শীতে স্ত্রী দিপালী বেগমকে (৩৫) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন রকিবুল।

বুধবার দুপুরে মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর। এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিহত গৃহবধূর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়।

পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, প্রায় ৬ বছর আগে দিপালীর সাথে বিয়ে হয় রকিবুলের। বিয়ের সময় আসামি রকিবুল নগদ ৫ লাখ টাকা যৌতুক নেন। পরে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। দিপালীর পরিবারের সদস্যরা তা দিতে অস্বীকার করে। এরপর থেকে দিপালীর ওপর নির্যাতন চলছিল। এ কথা জানতে পেরে দিপালীর মা বসতবাড়ি বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দেন।

তিনি আরও বলেন, যৌতুকের টাকা দিয়ে রকিবুল বাড়ি, ফার্নিচারের দোকান, কাঠের ডিজাইন করার মেশিন কেনেন। এসবের পর আরও ৪ লাখ টাকা দাবি করেন রকিবুল। এই টাকা আদায়ের জন্য দিপালীর ওপর আবারও নির্যাতন শুরু করলে দীপালির মা বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে মেয়ের বাড়িতে আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পারিবারিক কলহের জের ধরে রকিবুল দিপালীকে তার মায়ের সামনে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে দিপালীর মাথার খুলি ফেটে মগজ বের হয়ে যায়। দীপালির মায়ের চিৎকারে আশেপাশের মানুষ এগিয়ে আসেন এবং চিকিৎসার জন্য পল্লী চিকিৎসক ডাকেন। তবে তার আগেই মারা যান দিপালী।

মুক্তা ধর বলেন, স্ত্রীকে হত্যা করার পর মামলা হয়। এরপর ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তের এক পর্যায়ে আত্মগোপনে থাকা রকিবুলের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সিআইডির একটি টিম সাভারের ধামসোনা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে উত্তেজিত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন রকিবুল।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023