তিস্তা-ধরলার অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা মানুষ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১

মুক্তজমিন ডেস্ক

তিস্তা-ধরলার অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা মানুষ। রাত হলেই তিস্তা-ধরলাপাড়ে নেমে আসে আতঙ্ক। কখন যেন ঘরবাড়িতে ভাঙন দেখা দেয়। লালমনিরহাটে তিস্তা-ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রভাবিত হলেও দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন।

বুধবার বিকেলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাটের নিবার্হী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, পানি কমা-বাড়ার কারণে তিস্তা ধরলার ৩৭টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা ও তিস্তার ভাঙনে ৫৭টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তবে ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ভারতের সিকিম উপত্যকা থেকে সৃষ্ট তিস্তা নদী ভারতে প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাট জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। উজানে ভারতের অংশে ভারত সরকার বাঁধ নির্মাণ করে তিস্তা নদী একতরফাভাবে ব্যবহার করছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে কোনো পানি থাকে না। মরুভূমিতে পরিণত হয় তিস্তা আবার বর্ষাকালে অতি বর্ষণের ফলে ভারতের অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ অংশে ভয়াবহ বন্যা আর তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ, আদিতমারি ও সদর উপজেলাসহ নীলফামারী রংপুর কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলা।

এদিকে, গত এক সপ্তাহ থেকে অব্যাহতভাবে তিস্তা ধরলার পানি বিপদসীমার উপরে থাকলেও বুধবার বিকেল থেকেই তিস্তার পানি ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে ধরলার পানিও কমে গিয়ে বিপদসীমার নিচে চলে এসেছে।

তবে পানি কমলেও এই দুইটি নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ভাঙনে দিশেহারা মানুষের কান্নায় নদীপাড়ের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন কুটিরপাড় বাঁধের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, এবার দিয়ে ১৩ বার ভাঙনের শিকার হলাম। এখন কোথায় যাব, তা আল্লাহ জানে।

অমেলা বেওয়া জানান, পানি কিছু কমলেও কখন যে পানি বাড়ে সেই ভয়ে দিন পার করছি। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের চর গোবর্ধন এলাকার সাহানুর বলেন, পানি কিছুটা কমলেও দেখা দিয়েছে ভাঙন। আমরা নদী পাড়ের মানুষ ভাঙন থেকে বাঁচতে চাই। সারাদিন আমাদের আতঙ্কেই কাটে।

একই কথা বললেন ধরলাপাড়ের বাসিন্দা জেলহাক। তিনি বলেন, মন্ত্রী, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সবাই আমাদের নদীপাড়ে এসে দেখে যান, আশ্বাস দেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো কিছুরই খবর নেই। আমাদের এখানে বাঁধ নির্মাণ হলে নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, না হলে নদী হামাক শেষ করে দেবে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, ভাঙন কবলিত জায়গায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এছাড়া ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে পত্র দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023