স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা আবারো সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি, অবিলম্বে টিকা সংগ্রহ করে এই করোনা মোকাবিলার জন্য একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করে সত্যিকার অর্থেই জনগণের জন্য কাজ করুন।’
বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) বনানীতে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়া দম্পতির ছোট সন্তান প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন ফখরুল। ক্রীড়া সংগঠন এবং ক্রিকেটের উন্নয়নে তার একনিষ্ঠ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন বিএনপি মহাসচিব।
করোনার টিকা প্রদানে সরকারের ব্যবস্থাপনায় নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, “করোনা মোকাবিলায় আজকে এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। যাকে বলা যায়, করোনা মোকাবিলায়-টোটাল ম্যানেজমেন্ট ফেইলিউর। এর ফলে আজকে টিকা প্রদানে ম্যানেজমেন্টের প্রচণ্ড রকমের যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে, সেই নৈরাজ্যের কারণে গোটা জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আমরা পত্র-পত্রিকায় তা দেখতে পারছি।”
লকডাউন তুলে নেওয়ার পর সংক্রমণ কমছে না, লকডাউন তুলে নেওয়া ঠিক হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি প্রথম থেকে বলছি যে, আসলে করোনা মোকাবিলায় সরকারের টোটাল ম্যানেজমেন্ট ব্যর্থ হয়েছে। দিজ গভার্নমেন্ট হেজ ফেইল্ড টোটালি টু ম্যানেজ করোনা।”
তার দাবি, অপরিকল্পিত লকডাউন, অপরিকল্পিত টিকা ব্যবস্থা, অপরিকল্পিত মানুষের জীবন ব্যবস্থা করা –সব মিলিয়ে এই সরকারের আর এক মুহূর্ত ক্ষমতা থাকা উচিৎ নয়। দে শুড বি রিজাইন ইমিডিয়েটলি।”
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব নেতা-কর্মীদের নিয়ে বনানী কবরাস্থানে তার কবরে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এই সময়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক, দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, যুব দলের সাইফুল আলম নিবর, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, মামুন হাসান, এসএম জাহাঙ্গীর, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্র দলের ফজলুল রহমান খোকনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি ৪৫ বছর বয়সে মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কোকো। পরে ২৮ জানুয়ারি তার মরদেহ দেশে এনে বনানী কবরাস্থানে দাফন করা হয়।
কোকোর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দুপুরে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও কোরআন শরীফ পড়ে দোয়া প্রার্থনা করা হয়। চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি রয়েছে বিএনপির।