বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫-০তে সিরিজ জয়। কারণ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি ও রেটিং বাড়ানোও দারুণ প্রয়োজন টাইগারদের। ক্রিকেটের এই রঙিন ফরম্যাটে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশর অবস্থান এখনো আফগানিস্তানের পর (১০ম স্থানে)। এ কারণেই বিশ্বকাপের জন্য বাছাই পর্ব খেলতে হচ্ছে টাইগারদের। ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই পূর্ণশক্তির দলই নিয়ে কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বগতিকরা। সবকিছু ঠিক থাকলে দলে ফিরছেন অজিদের বিপক্ষে দলে থেলতে না পারা তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম ও লিটন দাস। র্যাঙ্কিংয়ে চোখ রেখে নিউজিল্যান্ডকে যে ছাড় দেয়া হবেনা তার কারণটাও জানিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘ আমরা আমাদের কন্ডিশনে কোনো কিছু ছেড়ে দিতে পারি না; আমরা ঘরের মাঠে ভালো দল।
আমাদের দলের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভালো সম্ভাবনা আছে কিন্তু র্যাঙ্কিংয়ে এটা প্রকাশ করে না।’ যদিও এই সফরে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড তাদের দ্বিতীয় সারির দলই ঢাকায় পাঠানোর ঘোষণ দিয়েছে।
তবে কিউইরা সফরে আসার আগে কিছুটা বিশ্রাম পাচ্ছে টাইগাররা। সিরিজের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৬২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের সঙ্গে। শেষদিকে দ্রুত উইকেট তুলে নিচ্ছিলেন সাকিব আল হাসান। তখন কিপার ব্যাটসম্যান নূরুল হাসান সোহান বলে ওঠেন- ‘নেন (উইকেট) ভাই তাড়াতাড়ি নেন, অনেক দিন পর বাড়ি যাবো।’ অজিদের ৪-১ এ বধ করে সিরিজ জিতেই পরিবারের কাছে ছুটেছেন টি-টোয়েন্টি দলের ক্রিকেটাররা। ১৩ দিনের ছুটি পেয়েছে টাইগাররা। জুলাইয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল। সেখানে থেকে সিরিজ জয় নিয়ে ফিরে সরাসরি হোটেলে উঠতে হয়েছিল। কারণ অস্ট্রেলিয়ার দাবি কোনো ভাবেই বায়ো বাবল থেকে বের হওয়া যাবে না। সবমিলিয়ে প্রায় এক মাস পরিবার- পরিজন থেকে দূরে থেকে মাঠে-ব্যাট বলের লড়াই। তবে এত কষ্টের পরও দলের প্রতিটি সদস্যের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। তবে ফের মাঠে ফিরতে হবে দ্রুতই। কারণ ২৪শে আগস্ট ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ঢাকায় পা রাখবে নিউজিল্যান্ড জাতীয় দল। তার আগেই ফিরতে হবে। খুলনায় বাড়ির পথে যেতে যেতে দলের তরুণ সদস্য মেহেদী হাসানও জানালেন সেই কথা। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন পর বাড়ি যাচ্ছি। ছুটির সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটাবো। আবারতো ফিরে আসতে হবে নিউজিল্যান্ড সিরিজের ক্যাম্প শুরু হলে।’ অন্যদিকে গতকালই নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশ সফরের জন্য তাদের ঘোষণা করেছে। তবে এই সফরে তারা পাঠাচ্ছে না টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে খেলবে এমন বেশির ভাগ তারকা ক্রিকেটারকেই। তাই নিয়মিত অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনতো আসছেন না। সঙ্গে এই সফরে দেখা যাবে না মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি, জিমি নিশাম, ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সৌদি, লকি ফার্গুসন, মার্টিন গাপটিল এর মতো তারকাদের। এককথায় দ্বিতীয় সারির একটি দলই পাঠাচ্ছে কিউই ক্রিকেট বোর্ড। এর কারণটা স্পষ্ট। তারা অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশের স্পিনে নাকাল হয়ে ৪-১ সিরিজ হার থেকে শিক্ষা নিয়েছে। এমন উইকেটে প্রস্তুতি নিয়ে তারা বিশ্বকাপে খেলবে না। কারণ দুবাইয়ে আইসিসি যে উইকেট বানাবে সেটি হবে ব্যাটসম্যানদের স্বর্গরাজ্য। তাই বোলিং উইকেটে খেলে তাদের বিশ্বকাপ দল যেন বিভ্রান্ত না হয় তাই এই সিদ্ধান্ত।