কলেজজীবনের প্রেমিককে হারিয়ে পাল্টে যান পিয়াসা!

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১

ডেস্ক রিপোর্ট

চট্টগ্রামে কলেজে পড়ালেখার সময় এক শিল্পপতির ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় আলোচিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার। কিন্তু তাদের প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওই ছেলেকে অন্যত্র বিয়ে করায় তার পরিবার। এই ঘটনায় পিয়াসা চরমভাবে ভেঙে পড়ে। এরপরই পাল্টে যেতে থাকে তার জীবন।

 

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পিয়াসা ছোটবেলা থেকে অত্যন্ত মেধাবী ছিল। কমার্স কলেজে পড়াকালীন সিনিয়রের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন। তিনি মাদারবাড়ির এক শিল্পপতির ছেলে। ওই প্রেমিক ও এক বন্ধুর সঙ্গে একদিন পতেঙ্গা সৈকতে বেড়াতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তার বন্ধু মারা যায়। এ ঘটনায় প্রেমিকসহ পিয়াসা আহত হন। তখনই তাদের প্রেমের ঘটনা পরিবারে জানাজানি হয়।

 

প্রেমিকের বাবা এই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকার করেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে অন্য এক ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ের সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেন। তখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন পিয়াসা।

 

এই ঘটনায় পিয়াসা চরমভাবে ভেঙে পড়ে। নতুন জীবন শুরু করতে পাড়ি জমান ঢাকার মামার বাড়িতে। ঢাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন।

 

পিয়াসার বখে যাওয়ার বিষয়টি পরিবার আঁচ করতে পেরে তাকে বহুবার চট্টগ্রামে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু পিয়াসা ফেরেনি। এমনকি মা-বাবার সঙ্গেও সম্পর্ক রাখেনি।

 

পিয়াসার পরিবার সূত্র জানায়, উত্তর বাড্ডায় নানার বাড়িতে যাওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর নজরে পড়েন পিয়াসা। ছয় মাসের মধ্যে একটি কোম্পানিতে চাকরি পাওয়ার কথা বলে পিয়াসা নানার বাসা ছেড়ে দেন। ওঠেন এক ব্যবসায়ীর দেওয়া ফ্ল্যাটে।

 

এরপর থেকে বদলে যায় পিয়াসার জীবন। তিনি অসৎসঙ্গে পড়ে ডুবে যান মাদকের নেশায়। একের পর এক সঙ্গী বদল করে রাতারাতি পিয়াসা হয়ে ওঠেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার মালিক।

 

১ আগস্ট রাতে গুলশান থানার বারিধারার ৯ নম্বর রোড এলাকার ফ্ল্যাট থেকে পিয়াসাকে গ্রেফতার করে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবা ও সিসা।

 

বিতর্কিত এই মডেল অস্ত্র ও স্বর্ণের চোরাকারবার করে অঢেল টাকার মালিক বনে গেছেন। মডেলিংয়ের আড়ালে তার ছিল পেশাদার অপরাধী চক্র।

 

প্রভাবশালীদের শেল্টারে চক্রের সদস্যদের অনেকে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যায়। পিয়াসার নেটওয়ার্কে ২০ থেকে ২৫ জন সুন্দরী রমণী রয়েছে। গুলশান, বনানী, বারিধারার অনেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী তাদের নিয়ে দেশের বাইরে ট্যুরে (প্লেজার ট্রিপ) যান।

 

মাদকদ্রব‌্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রাজধানীর গুলশান, ভাটারা ও খিলক্ষেত থানায় দায়ের করা পৃথক তিন মামলায় মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023