স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
খুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালি গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি মন্দির, কিছু দোকানপাট ও বসতবাড়িতে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন।
রবিবার (৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক-পৃথক বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছরে আমরা পদার্পণ করেছি। কিন্তু দেশ চলছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধারার বিপরীত পথ ধরে। রাষ্ট্রীয়ভাবে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদদ দেওয়া হচ্ছে। সরকার সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘পরামর্শ’ মেনে চলছে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে নিষিদ্ধ না করে, সরকার নিজের স্বার্থে কাজে লাগাতে চাইছে। সর্বত্র সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশ আজ ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখি।’
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলা চলেছে। কিন্তু হামলার যথাযথ বিচার হচ্ছে না। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, সরকার এখন ব্যস্ত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে। সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
পৃথক বিবৃতিতে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ খুলনার রূপসা উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, প্রতিমা ভাঙচুর, বাড়িঘরে হামলা, মারধরের এবং আহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ, তীব্র নিন্দা ও ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে খুলনার রূপসা উপজেলায় কীর্তন গানকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শতাধিক দুর্বৃত্ত রামদা, চাপাতি, কুড়াল নিয়ে শিয়ালি গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় চারটি পারিবারিক মন্দির ও প্রতিমা, ছয়টি দোকান, একটি বাড়ি ভাঙচুর ও হামলা করা হয়। এ সময় কয়েকজন বাধা দিতে গেলে তাদের পিটিয়ে আহত করা হয়।পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীদের হাতে নারীরাও মারধরের শিকার হয়েছে।
সালেহ আহমেদ সন্ত্রাসী হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা ও আহতদের সুচিকিৎসার দাবি করেন।