স্পোর্টস ডেস্ক
জীবন আসলে নাটকের চেয়েও নাটকীয়! গত মৌসুমে লিওনেল মেসি বার্সেলোনা ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্লাব জোর করে তাকে রেখে দেয়। এবার মেসি থাকতে চাইলেন আর ক্লাব কিনা বিদায় বলে দিচ্ছে আর্জেন্টাইন খুদেরাজকে!
এবারও কি নাটকীয় কিছু হবে? মেসিকে কি বিদায় দিয়েও শেষ মুহূর্তে রেখে দেবে বার্সা? প্রশ্নটা মনে উঁকি দিচ্ছে অনেকেরই। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বার্সা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাকেও মুখোমুখি হতে হলো এই প্রশ্নের। মেসির বার্সায় থেকে যাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা আছে কি?
লাপোর্তা হতাশই করলেন। তিনি বলেন, ‘আমি মিথ্যা আশা দিতে চাই না। তার সঙ্গে সমঝোতার সময়ই আমরা জানতাম, তার কাছে অনেক ক্লাবের প্রস্তাব রয়েছে। এটার একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে।’
বার্সা সভাপতি যোগ করেন, ‘যদি ফেয়ার প্লের নিয়ম এভাবে চলতে থাকে, তবে খেলোয়াড়দেরও কিছু সময় দেয়া উচিত যাতে তারা বুঝতে পারে কি করবে। তাতে অন্য অপশনগুলো নিয়েও ভাবতে পারবে।’
মেসিকে রাখতে চেষ্টা কম করা হয়নি, জানিয়ে লাপোর্তা বলেন, ‘আমরা এটার জন্য (সমঝোতা ও চুক্তি) দুই মাস ধরে চেষ্টা করছিলাম। বিভিন্ন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রথমে চুক্তি হয়েছিল দুই বছরের। পরে আমরা পাঁচ বছরের চুক্তিতে সম্মত হই।’
‘আমরা দুই বছরের কথাই ভাবছিলাম। যদি সে আরও বেশি চাইতো, আমরা বসে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিতাম। আমরা চেয়েছিলাম মেসি-পরবর্তী যুগটা দুই বছর পর শুরু হোক। কিন্তু আমাদের সামনে এগিয়ে যেতেই হলো।’
এভাবে বিদায় বলায় মেসি কষ্ট পাবেন, বুঝতে পারছেন বার্সা সভাপতি। লাপোর্তা বলেন, ‘লিও থাকতে চেয়েছিল, তাই সে খুশি হবে না। এখন তার অবস্থাটা এমন যে, বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে। এটা বদলাবে না। সে জানে, সে যেখানেই যাক আমি তার সেরাটা কামনা করি। বার্সা তার বাড়ি।’
কিন্তু কিছু করার নেই। বাস্তবতাই আজ এই জায়গায় দাঁড় করিয়েছে, মনে করেন লাপোর্তা, ‘আমি তাকে নিয়ে আজ এখানে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের বাস্তব পৃথিবীর দিকে তাকাতে হবে। আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি, কিন্তু বাস্তবতা সেটাই যেটা হলো। এই মুহূর্তে এটা খুব সহজ ব্যাপার নয়।’
মেসিকে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়ে বার্সা সভাপতি বলেন, ‘লা লিগায় মেসিই ছিল সেরা। সে প্রতিটা সময়েই ইতিহাস তৈর করেছে। ক্লাবের ইতিহাসে সে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পাওয়া খেলোয়াড়। মেসি আমাদের সবকিছু দিয়েছে যা খেলাধুলার জগতে আর কেউ দিতে পারবে না। আমরা তাকে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই।’