স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
করোনার সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই ঈদুল আজহার পর সবকিছু উপেক্ষা করে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। ফুটপাত ধরে হাঁটছে সারি সারি মানুষ। কারও মাথায় প্লাস্টিকের বড় ব্যাগ, কারও কাঁধে ব্যাগ ঝোলানো, কেউ ট্রলি ব্যাগ টেনে নিয়ে যাচ্ছেন মাইলের পর মাইল। কারও কাঁধে ব্যাগের সঙ্গে কোলে শিশুসন্তানও রয়েছে। গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য নেই কোনো বাস বা গাড়ি। রিকশা বা ভ্যানের আশায় এদিক-সেদিক তাকাচ্ছেন, কিন্তু কিছুই মিলছে না। তাই শেষ উপায় হাঁটা।
শুক্রবার গাবতলী ও আমিনবাজার ব্রিজ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি এড়িয়ে পায়ে হেঁটে, রিকশা, ভ্যানে করে ঢুকছে মানুষ।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফিরেছেন নাসিমুল হাসান। তবে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়েও কোনো রিকশা বা ভ্যান কিছুই পাচ্ছিলেন না।
তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার আগে গ্রামের বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছি। পথে অনেক জ্যাম ছিল তাই দেরি হয়েছে। এখন এসে দেখি যাওয়ার কোনো ব্যবস্থাই নেই। জ্যাম না থাকলে ভোরের অনেক আগেই ঢাকায় পৌঁছাতাম। এতক্ষণে খেয়েদেয়ে ঘুম দিতাম। কিন্তু জ্যামের কারণে এখনও পথে পথে ঘুরছি। প্রাইভেট কারের ভাড়াতেও রিকশা-ভ্যান পাচ্ছি না। ব্রিজের ওপার থেকে দুই কিলোমিটার হেঁটে আসছি।’
আমিন বাজার ব্রিজের গাবতলী পয়েন্টে তল্লাশি করত দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। যারা কারণ দেখাতে পারছে তাদের যেমন ছেড়ে দেয়া হচ্ছে তেমনি অকারণে বের হলে যানবাহনে গুনতে হচ্ছে মামলা। আর ব্রিজের মাথায় রিকশা-ভ্যানকে যাত্রীদের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।
আমিন বাজার ব্রিজে দায়িত্বরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. বায়োজিদ মোল্লা বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে বিধি নিষেধের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অনেকেই ফিরছেন ঢাকায়। তবে যারা উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারছেন না তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। সকাল থেকে একজনকে মামলা দেয়া হয়েছে।