শিরোনাম :
শিবগঞ্জে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরির অভিযোগে শিপন গ্রেফতার শাজাহানপুরে কিশোর গ্যাংয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০ : গ্রেফতার ২ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী রমজান আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস: শাজাহানপুর ইউএনও’র ঈদের শুভেচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যতম পারমাণবিক হুমকি পাকিস্তানও : তুলসি ঈদ উপলক্ষে তারেক রহমানকে মোদির শুভেচ্ছা বার্তা ঈদযাত্রায় ভোগান্তির কারণে ৪ ঘণ্টার পথ ১৬ ঘণ্টা আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি ঈদ শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এহতেশামুল হাসানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদান গাবতলীতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের উদ্যোগে ইফতার

ব্যবসা আছে, তাই অ্যাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলোর নজর বাংলাদেশে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

দেশে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ভাইবার, ইমো, লাইন, উইচ্যাট নামের ওটিটি (ওভার দ্য টপ) সার্ভিসগুলো বেশ জনপ্রিয়। পাশাপাশি ফেসবুক, উবার, ইন্সটাগ্রামও চলছে বেশ। তবে এদের বেশিরভাগেরই এ দেশে কোনও অফিস নেই। অফিস না থাকলেও কোনও কোনও প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাদের এ দেশে মোটামুটি ব্যবসা আছে তারা জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিচ্ছে। এ দেশে প্রসার বাড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো নানা কৌশলও নিয়েছে।

 

জানা গেছে, মেসেঞ্জার, ভাইবার, ইমো, লাইন, উইচ্যাট-এর বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় আছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

 

 

ভাইবার ও ইমো বর্তমানে জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। লাইন ও উইচ্যাটের বিষয়ে কিছু জানা জায়নি। ফেসবুকের এ দেশে কোনও অফিস না থাকলেও তারা বাংলা ভাষাভাষী একজনকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি ফেসবুক এবং ফেসবুকের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশ অংশ দেখভাল করেন।

 

উবারের এ দেশে কোনও অফিস নেই। প্রতিষ্ঠানটি ভারত থেকে এ দেশে জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। গুগলের কোনও অফিস না থাকলেও মাঝে মাঝে জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যক্রম চালায়।

 

লাইকি এ দেশে অফিস চালু করেছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি অফিসকে সামনে না এনে জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইনস্টাগ্রাম লাইটও জনংযোগ প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিচ্ছে। দেশে হোয়াটসঅ্যাপের তেমন বাণিজ্য না হওয়ায় এ ধরনের কার্যক্রম এখনও চোখে পড়েনি।

 

এ ধরনের ওটিটি প্রতিষ্ঠানকে কোনও দেশে অফিস চালু করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশে নিবন্ধিত হয়ে, আইন ও বিধিবিধান মেনে চলতে হয়। এ শর্ত এড়াতেই অনেকে জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান বা প্রতিনিধি নিয়োগ করে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, ভবিষ্যতে এ দেশে অফিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কারণ বাজার হিসেবে বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়। এ দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১১ কোটি ২৭ লাখ ১৫ হাজার। ফেসবুক ব্যবহারকারীর সাড়ে চার কোটি। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছে ৩ কোটির বেশি। এ ছাড়া ভাইবার ব্যবহারকারী প্রায় ২ কোটি।

 

দৌড়ে পিছিয়ে নেই ইমো, উইচ্যাট। ফলে তাদের বাণিজ্যিক চোখ যে এ দেশে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

 

যোগাযোগ করলে লাইকির মুখপাত্র জানান, ‘সরকারের আইন ও নীতিমালা মেনে নিবন্ধিত অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে লাইকি। সরকার ও ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সমর্থন পেয়ে আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত।’

 

জানা যায়, লাইকিতে দেশের জনপ্রিয় তারকারাও যোগ দিয়েছেন। এমন অন্তত ১০ জন তারকার কথা জানা গেছে যাদের মধ্যে আছেন অভিনেতা, অভিনেত্রী, উপস্থাপক, সঙ্গীত জগতের তারকা। মডেল ও উপস্থাপক মুমতাহিনা টয়া কিছুদিন আগে যোগ দিয়েছেন লাইকিতে। মাসিক সম্মানির বিনিময়ে ভিডিও নির্মাতা ও জনপ্রিয় তারকাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় প্রতিষ্ঠানটি।

 

ইমো’র মুখপাত্র জানান, ‘বাংলাদেশ ইমোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া যেসব দেশে আমাদের কার্যক্রম চলছে, আমরা সবসময় সেখানকার স্থানীয় নীতিমালা অনুসরণ করে কাজ করার চেষ্টা করি। তবে, কোনও দেশে অফিস চালু করতে হলে, আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে।’

 

এ দেশে টিকটকও বিপুল জনপ্রিয়। জানা গেল, মডেল, অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী গত বছর যোগ দিয়েছেন টিকটকে। টিকটকের আয়ের মূল উৎস বিজ্ঞাপন।

 

এ বিষয়ে প্রযুক্তি গবেষক ও প্রেনিউর ল্যাবের প্রধান নির্বাহী আরিফ নিজামী  বলেন, ‘এটা ভালো লক্ষণ। সামনে এ খাতে সুদিন আসছে বলে মনে হয়। বিষয়টি দুভাবে দেখছি। প্রথমত, এতে যেহেতু ব্যবসার সুযোগ আছে, সেহেতু সরকার আরেকটু খোলামেলা হতে পারে। তা হলে বড় কোম্পানিগুলো সরাসরি এ দেশে আসবে। তাদের কাছ থেকেও রাজস্ব আয় হবে। দ্বিতীয়ত, দেশে স্মার্টফোন ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমরা স্মার্টফোন ব্যবহারে নেপালের চেয়ে পিছিয়ে। এটা বাড়ালে অনেক সুযোগ আসবে। এ ছাড়া অনেক অ্যাপস চীন, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কার্যক্রম ব্লক রেখেছে। ওইসব অ্যাপসে বাংলাদেশে ভালো করতে পারে। কারণ বাংলাদেশের বাজার অনেক বড়। এজন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি কূটনীতি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023