শিরোনাম :
রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি : জামায়াত আমির কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট দেওয়ার আশ্বাস তারেক রহমানের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত বগুড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে ভোক্তা অধিকারের অভিযান দশ হাজার জরিমানা বগুড়ায় আমীরে জামায়াতের জনসভা সফল করতে ১০ দলীয় জোটের সভা শিবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থী ৭ জন শিবগঞ্জে অবৈধ মাটি মহলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা শাজাহানপুরে মোটরসাইকেল-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার ২০০ কোটি টাকার মালিক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার (এমএসআই) রুহুল আমিন টেন্ডার ছাড়াই কাজ করে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকা ও ময়মনসিংহে তার ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শুধু তাকেই নয়, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, ঘুষ-দুর্নীতি এবং টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থপাচারকারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন ১২ কোটিপতি কর্মচারীকে তলব করেছে দুদক। তাদের আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের ব্যবস্থা নিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলম স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট গড়ে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন ও বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আপনার অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ খুবই প্রয়োজন।

 

এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত তারিখে নিজ ও তার স্ত্রীর পাসপোর্ট, এনআইডি কার্ড ও আয়কর রিটার্নসহ দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে অনুরোধ জানানো হলো।

 

১৩ অক্টোবর তলব করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার (এমএসআই) রুহুল আমিন, প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার, স্টেনোগ্রাফার শাহজাহান ফকির ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু সোহেল। ১৪ অক্টোবর তলব করা হয়েছে উচ্চমান সহকারী শাহনেওয়াজ ও শরিফুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী (কমিউনিটি ক্লিনিক শাখা) আনোয়ার হোসেন ও অফিস সহকারী হানিফকে। ১৫ অক্টোবর তলব করা হয়েছে অফিস সহকারী (এনসিডিসি) ইকবাল হোসেন, অফিস সহকারী মাসুম করিম, আলাউদ্দিন ও স্টোরকিপার সাফায়েত হোসেন ফয়েজকে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের চিহ্নিত করতে ২০১৯ সালে মাঠে নামে দুদকের গোয়েন্দা শাখা। দুদকের একজন পরিচালকের নেতৃত্বাধীন গোয়েন্দা শাখার একটি টিম দীর্ঘ অনুসন্ধানে ৪৫ জন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি তালিকা তৈরি করে দুদকে দাখিল করে। এছাড়া করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতে মাস্ক ও পিপিই ক্রয়ে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও সিএমএসডি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৭ জনের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। যাদের পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

 

দুদকের গোয়েন্দার শাখার এক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অফিস সহকারীসহ ২৮ কোটিপতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে যাদের তলব করা হয়েছে তাদের ৭ জনের নাম রয়েছে। এমএসআই রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি সাবেক একজন মহাপরিচালককে ব্যবহার করে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি করেন। তিনি কোনো টেন্ডার করে কোটি কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নিয়ে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। ঢাকা ও ময়মনসিংহে তার বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাটসহ বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ইপিআইর গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডিল করতেন। কর্মচারী সমিতির সভাপতি হয়ে তিনি এমন এক সিস্টেম তৈরি করেছেন কোনো অফিস সহকারীকে কর্তৃপক্ষ পদোন্নতি দিলে জাহাঙ্গীর আর্থিকভাবে সুবিধা পেতেন। যারা পদোন্নতির আবেদন করতেন আগেই তাদের কাছ থেকে তার এজেন্টরা অর্থ আদায় করতেন। সমিতির নামে চাঁদা ও টেকনিশিয়ান হিসেবে পদোন্নতির অর্থ আদায় করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

 

স্টেনোগ্রাফার শাহজাহান ফকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ বলা হয়েছে, তিনি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে একই স্থানে থাকায় এবং একজন পরিচালকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হওয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন।

 

আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। রংপুরে শত শত বিঘা জমিতে তার নামে সাইনবোর্ড ঝুলছে। তার অনেক জমিতে আলু ও ধান চাষ হয়। তিনি গত বছর বর্গা ভাগে দুই হাজার মন ধান পেয়েছেন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী ইকবাল হোসেন মহাপরিচালকের একান্তভাজন হওয়ায় বিলবোর্ড সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রয়োজন ছাড়াই বিলবোর্ড বানিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023