ডেস্ক রিপোর্ট
উচ্চ আদালতের নির্দেশে বরিশালের বাকেরগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ৪ নাবালক শিশুকে অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
শুক্রবার সকালে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে করে ওই শিশুদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় শিশুদের কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা।
তাদের দাবি, শত্রুতা করে বাদী শিশুদের ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়েছে। তারা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। প্রশাসন থেকে মামলার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেয়া হয়।
জামিনপ্রাপ্তরা হলো- সাইদুল ইসলাম, সোলায়মান ইসলাম তামিম, হাফিজুল ইসলাম লাবিব ও শাওন হাওলাদার। তাদের বয়স ৭ থেকে ৯ বছরের মধ্যে বলে দাবি করেছে অভিভাবকরা। তারা সকলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রুনশী ইউনিয়নের রুনশী গ্রামের বাসিন্দা।
আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করেন বরিশাল জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, বরিশাল কেন্দ্রিয় কারাগার, যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র এবং সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ।
ইউএনও মাধবী রায় জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথে ওই শিশুদের অভিভাবকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার কাজ শুরু হয়। শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ইউএনওসহ বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম, জেলা প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
হস্তান্তরকালে স্ব-শিশুদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, শত্রুতামূলক হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বাদী তাদের শিশু সন্তানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। তারা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এদিকে সকালে অভিভাবকের কাছে নিয়ে গেলে সেখানে সন্তানদের বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সন্তানদের মা-বাবাসহ স্বজনরা। এ সময় শত শত গ্রামবাসী উপস্থিত থেকে শিশু ও তাদের অভিভাবকদের সান্তনা দেন।
জেলা প্রশাসক এসএস অজিয়র রহমান জানান, উচ্চ আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ওই ৪ শিশুকে অভিভাবকদের হেফাজতে পৌঁছে দেয়ার জন্য শিশু আদালতের আদেশ বরিশাল কেন্দ্রিয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ওই আদেশ পাঠানো হয় যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে। বরিশাল থেকে যথাযথ ব্যবস্থায় যশোর গিয়ে সেখান থেকে শিশুদের আনা অনেক সময়ের ব্যাপার। তাই সেখানকার প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় বিশেষ ব্যবস্থায় কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে ওই ৪ শিশুকে বরিশালে আনা হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় হাইকোর্টে বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের যৌথ বেঞ্চ ওই চার শিশুকে মুক্তির আদেশ দেন। যশোরের জেলা প্রশাসককে বলা হয়, ওই চার শিশুকে যেন শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাসে করে রাতের মধ্যেই অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।
সেইসাথে বরিশালের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে ১১ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টায় সংশ্লিষ্ট উচ্চ আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। একইসাথে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলা হয়, ওই চার শিশু যেন অভিভাবকসহ একই তারিখে উপস্থিত থাকে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বলেন, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই চার শিশু তার পরিবারের কাছে থাকবে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আসল রহস্য উদঘাটন হবে। এ সময় ওই চার শিশুর অভিভাবকদের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রুনসী গ্রামে খেলার ছলে শিশুকন্যা ধর্ষণের অভিযোগে গত ৬ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের পর ৪ শিশুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৭ অক্টোবর তাদের আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের বিচারক তাদের যশোরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ৯ অক্টোবর উচ্চ আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে তাদের জামিনের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেন।