করোনাকালে রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সে রেকর্ড

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

করোনাভাইরাস মহামারির  মধ্যেও রেমিট্যান্সে বড় ধরনের রেকর্ড গড়লেন প্রবাসীরা। চলতি জুলাই মাসের মাত্র ২৭ দিনেই ২.২৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আর রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় রফতানি আয় কমার পরও প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের সবোর্চ্চ রেকর্ড গড়লো। বাংলাদেশের ইতিহাসে যা এযাবতকালের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এই রেকর্ড হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী সাইদুর রহমান  বলেন,  মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭১১ কোটি (৩৭.১১) ডলার। তিনি বলেন, করোনার মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। জুলাই মাসের আরও দুদিন বাকি থাকতেই পুরো জুন মাসের চেয়েও বেশি প্রবাসী আয় দেশে আসার রেকর্ড হয়েছে। গত জুন মাসে প্রবাসীরা ১৮৩ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। অথচ চলতি মাসের মাত্র ২৭ দিনেই ২.২৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আশা করা যায়, জুলাই মাসের শেষে এটি ২.৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে এর আগে কখনও এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রবাসী আয়ের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকার জন্য সরকারের সময়োপযোগী ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সামনে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। তাই বেশি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, প্রবাসীদের কাছে জমানো টাকা এখন বাড়িতে পাঠাচ্ছেন। কারণ প্রবাসীদের আত্মীয়দের হাতে এখন টাকা কম। ফলে প্রবাসী আয় বেড়ে গেছে।

 

গত ৩০ জুন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬.০১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে যেটি ছিল সর্বোচ্চ। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সেটি পৌঁছেছে ৩৭.১১ বিলিয়ন  মার্কিন ডলারের রেকর্ডে।

 

গত বছরের ৩০ জুন  বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩২.৭১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত এক বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে রেমিট্যান্সের অন্তঃপ্রবাহ। এর আগে এই বছরের ২৩ জুন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ রেকর্ড ৩৫ বিলিয়ন ডলার উচ্চতায় উঠে। গত ৩ জুন ৩৪ বিলিয়ন হয়। অর্থাৎ জুন মাসেই রিজার্ভে তিন বিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়েছে।  অবশ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ রেকর্ড ৩৩ বিলিয়ন ডলার উচ্চতায় উঠে ২০১৭ সালের ২১ জুন। সেদিন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৩০১ কোটি ডলার। এরপর রিজার্ভ কমে গেলেও ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর, ২ নভেম্বর ও ২৮ ডিসেম্বর ৩৩ বিলিয়ন ডলারে ফেরে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল বাকি রাখতে বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশ।

 

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শেষ দিকে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। এরপর বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন রিজার্ভে ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৮ বিলিয়ন (এক হাজার ৮২০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাধীনতার পর কোনও অর্থবছরে এতো রেমিট্যান্স আসেনি।এই পরিমাণ রেমিট্যান্সকে তারা এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ বলছেন।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে,  গত অর্থবছরের শুরুর দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার। এই অঙ্ক ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পুরো সময়ের (জুলাই-জুন) চেয়েও ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। ওই অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার(১৬.৪১ বিলিয়ন)।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে এই করোনার সময়ে প্রবাসীরা যত রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। এর আগে কখনোই কোনও অর্থবছরের পুরো সময়েও এই পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স থেকে আয় করেছিল এক হাজার ৪৯৮ কোটি কোটি ১৬ লাখ ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এসেছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি মনে করা হয় বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্সকে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023