স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ার সবচেয়ে বড় বিপনীবিতান ‘নিউ মার্কেট’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার রাতে বগুড়ায় সর্বোচ্চ ১১জনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরদিন বুধবার এ ঘোষণা এল। জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন বলেন, ‘মার্কেট খোলার প্রথম দিন থেকে সেখানকার দোকানগুলোতে যেভাবে মানুষের ভিড় বাড়ছিল তাতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছিল। এতে শহর তথা জেলাবাসীর মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বিলম্বে হলেও সেই নিউ মার্কেট বন্ধের এই সিদ্ধান্তে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।’
করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারাদেশের মত বগুড়ার নিউ মার্কেটসহ সকল বিপনী বিতান গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক দফায় বাড়িয়ে তা ১৬ মে পর্যন্ত বলবৎ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বগুড়ায় করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন গত ২১ এপ্রিল পুরো জেলাকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষণা দেন। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী ১২ মে পর্যন্ত এ জেলায় মোট ৫২জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ মঙ্গলবার জেলায় সর্বোচ্চ ১১জনের শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাস সনাক্ত হয়।
তবে এতকিছুর পরও রমজান ও ঈদে মানুষের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ মে থেকে সারাদেশে বেশ কয়েকটি শর্তে সীমিত পরিসরে দোকান-পাট ও মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। এসব শর্তের অন্যতম ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। তবে খোলার প্রথম দিনই বগুড়া নিউ মার্কেটে কেনা-কাটা করতে আসা মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। সেখানে বেচা-কেনার সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা কাউকেই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতেও দেখা যায়নি। বরং পছন্দের পোষাক, জুতা-স্যান্ডেল ও কসমেটিকস্সহ অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্য ক্রেতাদেরকে একেবারে গা ঘেঁষাঘেঁষি এমনকি ঠেলাঠেলিও করতে দেখা গেছে। অনেকে তাদের শিশু সন্তানদেরকেও সঙ্গে এনেছেন। হাতে গোনা কয়েকটি বড় দোকানে বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক ও হ্যান্ড গøাভ দেখা গেলেও অধিকাংশ দোকানি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় ন্যুনতম কোন সুরক্ষা ব্যবস্থাও গ্রহণ করেননি। এ নিয়ে গণমাধ্যমগুলোতে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জেলার সাধারণ মানুষ রীতিমত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে থাকেন। শত শত মানুষ নিউ মার্কেট বন্ধের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখতে শুরু করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মঙ্গলবার রাতে সর্বোচ্চ ১১জন করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরটি জেলা প্রশাসনকে ভাবিয়ে তোলে। এ কারণেই নিউ মার্কেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আফজাল রাজনের নেতৃত্বে একটি টিম নিউ মার্কেটে গিয়ে দোকান মালিকদেরকে বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তা কার্যকর করেন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানান, বগুড়া নিউ মার্কেটে কেনা-বেচার ক্ষেত্রে কোনভাবেই স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছিল না। তাই জনকল্যাণে সেটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’