শিরোনাম :
১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

‘রমজানে বিশেষ খাদ্য সহায়তা চালু করা হবে’

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

রমজান মাসে সরকার বিশেষ খাদ্য সহায়তা চালু করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকাল ১০ টায় জেলা পর্যায়ে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, রমজান মাসে যেন সংকট না হয় সেজন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা চালু করা হবে। এজন্য খাদ্য সরবরাহে বিশেষ নজর দেয়া হবে।

 

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ভিজিএফ, ওএমএস, কাবিখা কর্মসূচি চালু করেছি। ৫০ লাখ লোক রেশন কার্ডের আওতায় আছে। এছাড়া আরও ৫০ লাখ লোককে কার্ডের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে পাঁচ কোটি মানুষ উপকৃত হবে।

 

‘যারা সুবিধা নেবেন তাদের ডাটাবেজ করা থাকবে। যারা চাইতে পারবেন না তাদের জন্য আমরা এই ব্যবস্থা নিয়েছি।’ চিকিৎসক এবং নার্সদের সুরক্ষা সরঞ্জাম অন্যদের ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষকে সুরক্ষিত করার জন্য নানা ব্যবস্থা নিয়েছি। ডাক্তার, নার্সদের শুরুর দিকেই ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। ডাক্তারদেরকেও এ ব্যাপারে সচেতন করা হয়েছে। তাদের জীবন সুরক্ষিত রাখার জন্য পিপিইসহ অন্যান্য মাস্ক বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে শুরু করে গ্লাভস, ক্যাপ, জুতা সংগ্রহ করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, একটা জিনিস লক্ষ্য রাখবেন, যারা ডাক্তার-নার্স রোগী দেখেন, যারা করোনাভাইরাসে অসুস্থ রোগী দেখেন, সেই রোগীদের দেখার জন্য যে জিনিসগুলো ব্যবহার করা দরকার সেগুলো যদি সবাই মিলে যত্রতত্র ব্যবহার করতে শুরু করে তাহলে আমরা ডাক্তার-নার্সদের দেব কীভাবে। সেটাও একটা প্রশ্ন দেখা যায়।

 

এ পর্যন্ত ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪০ টিস পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মধ্যে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৬৯টি বিতরণ করা হয়েছে। যেগুলো সম্পূর্ণভাবে রোগী দেখার জন্য, সেগুলো রোগী দেখার জন্যই থাকবে। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট যারা তাদেরকেই ব্যবহার করতে হবে।

 

‘বাকি সবাই সুরক্ষিত থাকার জন্য মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস বা স্যানিটাইজার বা বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোঁবেন- সেগুলো সকলে মিলে ব্যবহার করবেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বৃহৎ শিল্প থেকে শুরু করে সব ধরনের শিল্প খাত এবং কৃষি খাতের জন্যও প্রণোদনা দিয়েছি। আমরা বিভিন্ন খাতে মোট ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছি। কোনো খাত প্রণোদনা থেকে বাদ পড়বে না।

 

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বের প্রায় আড়াইশ কোটি মানুষ ঘরবন্দি। সারাবিশ্বের অর্থনীতি থমকে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশও বিশ্বের একটি দেশ। তাই বাংলাদেশেও এর প্রভাব রয়েছে। তবে আমরা অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় এরই মধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা প্রণোদনা ঘোষণা করেছি।

 

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা ধাপে ধাপে রফতানিমুখী খাত, বৃহৎ শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবসায়ীর জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছি। পরে কৃষি খাতের জন্য প্রণোদনা দিয়েছি। এই প্রণোদনা কেবল ধান চাষিদের জন্য নয়, মৎস্য-পোল্ট্রি-ডেইরি সব খাতকে প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। কেউ প্রণোদনার আওতা থেকে বাদ পড়বে না।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই এপ্রিল মাসটা একটু কঠিন হবে। আগেই বলেছিলাম এই মাসে সাবধানে থাকতে হবে। যেখানে যখন প্রয়োজন লকডাউন করা হচ্ছে। দেশের কথা মানুষের কথা চিন্তা করে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। মানুষ যেন সংক্রামিত না হয় সে জন্য সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সবাই সচেতন হলে করোনা থেকে বাঁচা সম্ভব। আমরা আরেকটু সচেতন হলেই করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

 

দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সেদিকে দৃষ্টি দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, করোনার কারণে সারা বিশ্ব আজ আতঙ্কিত। আমার মনে হয় সারাবিশ্বে আগে কখনো এমন পরিস্থিতি দেখেনি। করোনায় গোটা বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির। বন্ধ রয়েছে মসজিদ-মন্দির-গির্জাসহ সব প্রার্থনার কেন্দ্র। এই সংকটে দেশে যেন খাদ্যর সমস্যা না হয় সেজন্য সব জমিতে ফসল ফলাতে হবে। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে।

 

দেশ প্রধান বলেন, আমরা ধান সংগ্রহ করার ঘোষণা দিয়েছি। আট লাখ মেট্রিক টন ধান, ১০ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন আতপ এবং ৮০ হাজার মেট্রিক টন গমসহ সর্বমোট ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য সংগ্রহ করবে সরকার। তাতে আমাদের ভবিষ্যতে আর কোনো অভাব হবে না। আগামী তিন বছর অর্থনীতির চাকা চালু রাখতে সরকার ইতোমধ্যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। আমাদের দেশের মানুষ যাতে কোনো কষ্ট না পায় এজন্য এ প্রনোদনা ঘোষণা করা হয়েছে।

 

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কেউ মারা যাক আমরা চাই না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভালো আছে। সবাই যদি সচেতন থাকেন তাহলে করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

 

সংবাদ সম্মেলনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তুপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান সরকারপ্রধান। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময়ের জেলাগুলো হচ্ছে- ঢাকা বিভাগের মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা এবং ময়মনসিংহ সদর।

 

বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং রেডিও স্টেশনগুলো এই ভিডিও কনফারেন্স সরাসরি সম্প্রচার করবে। এর আগে শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে তিন দফা পৃথক ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট এবং বরিশাল বিভাগের ৪০টি জেলার সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে স্বাস্থ্যবিধিসমূহ মেনে চলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সংকট উত্তরণের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজেরও ঘোষণা দেন।

 

দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনারোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৯১ জন। আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৫৬ জন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023